


দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য প্রজেক্টর না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে ফাঁসানোর জন্য এবং সরকারের স্কুল ফিডিংকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল ছত্রাকযুক্ত পাউরুটির ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার প্রেক্ষিতে বিরামপুর প্রেসক্লাবের একদল সাংবাদিক গতকাল বুধবার বিষয়টি জানতে গেলে ঐ ন্যাক্কার জনক অপপ্রচারের তথ্য উঠে আসে। জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, লেখাপড়ায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করা এবং তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করণের জন্য সরকারি ভাবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিরামপুর উপজেলার ১১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে রুটি, কলা, ডিম, বিস্কুট ও দুধ বিতরণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে আসছে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদারকি, ইএসডিও কর্মীদের একনিষ্ঠতা, স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় কমিটি এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্য প্রতিদিন তারিখ দেখে গ্রহণ এবং শিশুদের মাঝে বিতরণ করে থাকেন। এতোদিন সে বিষয়ে কোনো প্রকার অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ছত্রাকযুক্ত ৩টি পাউরুটি বিতরণের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিরামপুর প্রেসক্লাবের একদল সাংবাদিক বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা জানার চেষ্টা করেন। আর এতেই উঠে আসে ঐ ন্যক্কার জনক অপপ্রচারের চমকপ্রদ তথ্য।
বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ সাহাবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন মেয়াদের তারিখ দেখে খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়। ঘটনার দিনও তারিখ দেখে রুটি গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এতে কারো কোনো অভিযোগ না থাকলেও কয়েকজন যুবক বাড়ি থেকে কয়েকদিন আগের ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি এনে স্কুল চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। সকল শিক্ষার্থী টাটকা পাউরুটি পেলেও শুধুমাত্র অভিযোগকারীরা কীভাবে কয়েকদিন আগের রুটি পেল তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিস্ময়। প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান আরো বলেন, চলামান বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য স্থানীয় কয়েক যুবক স্কুলের প্রজেক্টর নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন। প্রধান শিক্ষক তা দিতে অস্বীকার করায় তারা প্রধান শিক্ষকের সম্মান হানী করার জন্য বাড়ি থেকে কয়েকদিন আগের বাসি ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি এনে ন্যক্কার জনক নাটক সাজিয়েছে।
স্কুলের শিক্ষার্থী ৫ম শ্রেণির লাবিব, ৪র্থ শ্রেণির সানজিদ ও মায়া বলে, প্রতিদিন তাদেরকে ভালো মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। অভিযোগকারীরা বাড়ি থেকে বাসি রুটি এনে ছবি তুলেছে। তাদের দাবি, আমরা কেউ বাসি রুটি না পেলেও তারা কীভাবে পেল? ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এর দিনাজপুর জেলা ম্যানেজার (স্কুল ফিডিং) শাহ মো. আমিনুল হক বলেন, বিষয়টি ফেসবুকে দেখে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে দেখি সরকারের একটি সফল উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং হীনস্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় বহিরাগতরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ করে থাকি। তাই আমাদের দ্বারা এরকমের ব্যতিক্রম ঘটার কোনো সুযোগ নেই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমার নিকট কেউ অভিযোগ করেনি। প্রতিটি স্কুলে কমিটির মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়। তাই সেখানে বাসি-পচা খাদ্য ও মানহীন খাদ্য সরবরাহের কোন সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি সম্পর্কে নিজে বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে দেখেছি উপজেলার কোথাও এরকম ব্যতিক্রম ঘটেনি। উপজেলার সব স্কুলে টাটকা রুটি বিতরণ করা হলেও একটি স্কুলে মেয়াদ উত্তীর্ণ মাত্র তিনটি রুটি পাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। প্রধান শিক্ষকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, খেলা দেখার জন্য স্কুলের সরকারি প্রজেক্টর না দেওয়ায় একটি মহল পরিকল্পিত ভাবে এঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।