বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে এ বিষয়ে চারটি পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে ইসি। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের জন্য পাঠানো চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮ অনুযায়ী পরিষদগুলোর প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদ কার্যকর থাকবে। একই আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরিষদগুলোর শপথ গ্রহণ ও প্রথম সভার তারিখ প্রয়োজন। পাশাপাশি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাস দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের তথ্য চেয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬ অনুযায়ী করপোরেশনের প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ কার্যকর থাকবে। একই আইনের ধারা ৩৪ অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সিটি করপোরেশনগুলোর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শপথ গ্রহণ ও প্রথম সভার তারিখ প্রয়োজন।
চিঠিগুলোতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের এসব তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে।
এর আগে গত ৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ডিলিমিটেশন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে কাজগুলো শেষ করা যায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা আমাদের পর্যায় থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি। আমাদের জাতীয় নির্বাচনের মতো করেই, ইনশাআল্লাহ, খুব সুন্দরভাবে একটি ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মামলা, সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।
পৌরসভার রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভা এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়।
উপজেলা পরিষদের রোডম্যাপ থেকে জানা যায়, নতুন পাঁচটি উপজেলাসহ দেশে মোট উপজেলা ৫০০টি। কোনো উপজেলাতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী।
নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, নতুন সিটি করপোরেশন বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের কোনোটিতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।


























