1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ২৩ জন দেখেছেন

পাথর উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্রব্যের সংকটে টানা ১ মাস ২২ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের উৎপাদন শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে তিন শিফটে খনির ভূগর্ভে পুরোদমে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খনিতে শ্রমিকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত ১৮ মে ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের (বিস্ফোরক) মজুত শেষ হয়ে যায়। পরে, গত ১৯ মে সকাল থেকে খনির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাময়িক ছুটিতে পাঠায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) খনিতে কর্মরত ৭ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীকে। খনি থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছিল।

খনির একটি বিশ্বস্ত সুত্র বলছে, ১ মাস ২২ দিন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন দেড় কোটি টাকা হিসাবে এরই মধ্যে সরকারের গচ্চা গেছে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা। গত ১৯ মে বিষ্ফোরক ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি মাসে পাথর বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ মে. টন। গত জুন মাসে ৯২ হাজার মে. টন পাথর বিক্রি হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত ২৩ হাজার মে.টন বিক্রি হয়। পেট্রোবাংলার অধীন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড এই খনি থেকে উত্তোলন করা পাথর বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে। পাথর বিক্রি না হওয়ায় খনির ১২ ইয়ার্ডে ৪০০ কোটি টাকার ১৪ লাখ ৫০ হাজার মে. টন পাথরের মজুদ গড়ে উঠেছে। নদী শাসনের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বোল্ডার ৩ লাখ ৮০ হাজার টন পাথর এবং রেলপথের জন্য ২৫০ কোটি টাকার ব্লাস্ট ৯ লাখ ৫০ হাজার মে. টন।

খনিতে পাথর উত্তোলন শুরু হলেও উত্তোলিত পাথর রাখার জায়গার নিয়ে পড়েছে দুশ্চিন্তায় খনি কর্তৃপক্ষ। খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, মধ্যপাড়া পাথর খনির মূল ক্রেতা হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে রেলওয়ে কোনো পাথর কিনছে না, আবার পরিবহনে সমস্যার কারণে বেসরকারি খাতের ক্রেতারাও আগ্রহী নয়। ফলে পাথর বিক্রিতে গতি নেই। গত মে মাসে দাম কমিয়েও পাথর বিক্রি বাড়াতে পারেনি খনি কর্তৃপক্ষ। সারা দেশে পাথরের চাহিদা প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ মে. টন।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম রিটু জানান, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরকের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। মধ্যপাড়া পাথর খনিতে নদী শাসনের জন্য বোল্ডার ৩ লাখ ৮০ হাজার টন পাথর এবং রেলপথের জন্য ব্লাস্ট ৯ লাখ ৫০ হাজার টন সবচেয়ে মজুদ। এই দুই সাইজের পাথর বিক্রি কমে যাওয়ায় অর্থ সংকটে পড়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। খনির ১২ ইয়ার্ডে ১৪ লাখ ৫০ হাজার মে. টন পাথরের মজুদ রয়েছে। এব্যাপারে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো: আমজাদ হোসেন বলেন, গত ১০ জুলাই থাইল্যান্ড থেকে ৮৮ মে.টন প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (বিস্ফোরক) খনিতে এসে পৌঁছায়।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে পুনরায় তিন শিফটে খনির ভূগর্ভে পুরোদমে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ পরিমাণ বিস্ফোরক দিয়ে প্রায় আড়াই মাস পাথর উত্তোলন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। আরও ৩০০ টন বিস্ফোরকের চাহিদা দেওয়া হয়েছে যা পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। বিস্ফোরক সংকটে খনিতে উৎপাদন বন্ধ না সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে পাথর বিক্রির বিষয়ে জানতে চাওয়া তিনি আরও বলেন, খনির পাথর বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয় রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে। কিন্তু দেশীয় পাথর সেখানে কাজে লাগছে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক যোগাযোগ করা হচ্ছে। এই খনির পাথর ব্যবহার করলে দেশের একমাত্র পাথর খনিতে প্রাণ ফিরবে। সরকারও পাবে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )