


চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৮০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। তিন মাসের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার ফিউচারও ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৮০ দশমিক ৬০ ডলারে নিষ্পত্তি হয়েছে।
সোনার দামের ঊর্ধ্বগতির পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কেনাকাটা। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নিট কেনাকাটা বছরে এক হাজার টনের ওপরে রয়েছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই ধারাবাহিক চাহিদা সোনার দামের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।
বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও বদলাচ্ছে। ব্যাংক অব আমেরিকার গ্লোবাল ফান্ড ম্যানেজার সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ শতাংশ ব্যবস্থাপক মনে করছেন সোনা এখনো অবমূল্যায়িত।
সোনার পক্ষে আরেকটি বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ। মার্কিন সরকারের ফেডারেল ঋণ সম্প্রতি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতে মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। কারণ মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে সোনাকে দীর্ঘদিন ধরে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সোনার দামে আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।
সোনার বাজারে বড় সম্ভাবনা থাকলেও পথটি ঝুঁকিমুক্ত নয়।
সুদের হার নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সোনার বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭১ শতাংশ।
এর সঙ্গে রয়েছে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি। তেলের দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। এর ফলে বন্ডের সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেটিও সোনার আরও বড় উত্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সোনার বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
২৪ আগস্ট সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্যের দিকে নজর থাকবে বাজারের। এরপর ২৬ আগস্ট প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির দ্বিতীয় হিসাব। মার্কিন অর্থনীতির গতি সম্পর্কে এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের ধারণা বদলাতে পারে।
জুলাইয়ের পিসিই মূল্যস্ফীতির তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। কোর পিসিই মাসিক হিসাবে ০ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই অর্থনৈতিক তথ্যগুলো সুদের হার সম্পর্কে বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন আনতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ডলার, বন্ডের সুদহার এবং শেষ পর্যন্ত সোনার দামেও।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার দাম পাঁচ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী চাহিদা, বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব, দুর্বল ডলার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সোনার পক্ষে কাজ করছে।
তবে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা, উচ্চ বন্ড ইল্ড এবং মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ সোনার দামের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
তাই পাঁচ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রা এখনই নিশ্চিত বলা না গেলেও, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এটি আর পুরোপুরি অসম্ভব কোনো পূর্বাভাস নয়।