এ সময় বিক্ষোভকারী ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে। পরে অনতি বিলম্বে মামলা নিতে হবে, এস আই অজয়কে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তসহ বিভিন্ন দাবী তুলে ধরে স্লোগান দেয় । পরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা নম্বর-১৬।
নিহতের মা রওশনারা বেগমের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকার মো. শামীম মিয়ার সঙ্গে সুখী মনির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। পরে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, যৌতুকের দাবিতে সুখী মনিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুখী মনি নির্যাতন সহ্য করলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসামিরা সুখী মনির ওপর নির্যাতন চালান। পরে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা। এরপর বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি কাঁচা টিনশেড ঘরের মেঝেতে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নিহতের মা রওশনারা বেগম বলেন, মরদেহের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর ভাষ্য, সুখী মনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুখী মনির স্বামী মো. শামীম মিয়াসহ নয়জনকে আসামি করে থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, মৃত্যুর পর থানায় গিয়ে এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মামলা গ্রহণ করেনি। এর প্রতিবাদে শনিবার রাত ৮টার দিকে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা গঙ্গাচড়া মডেল থানার প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা দ্রুত মামলা গ্রহণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করা হয় ।
নিহতের স্বজনরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোড় দাবি জানিয়েছেন।
১৩ আগষ্ট বিকেলে গজঘন্টা ইউনিয়নের সচেতন মহলের উদ্যোগে গঙ্গাচড়া বাজার জিরো পয়েন্টে আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনকারীরা বলেন, হত্যাকারীরা গতরাত পর্যন্ত এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার না করা ও পালানোর সুযোগ দেওয়া পুলিশের নিরব ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন, “মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ ও দোষীদের গ্রেফতার করা হবে।