মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম পীরগঞ্জ থানায় দেওয়া এজাহারে অভিযোগ করেন, রাজারামপুর মৌজায় খালাশপীর দারুল হুদা ফাজিল মাদরাসার ওয়াক্ফকৃত ও ভোগদখলীয় প্রায় চার একর ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। চলতি আমন মৌসুমে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে ধান চাষ করে পরিচর্যা করে আসছিল।
এজাহারে বলা হয়েছে, শনিবার দুপুর দুইটার দিকে মদনখালী ইউনিয়নের ঠাকুরদাস লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া লোকজন দলবদ্ধ হইয়া হাতে লাঠি সোঠা, লোহার রড, ধারালো ছোরা, হাসুয়া, বেকী, চাইনিজ কুড়াল, বল্লম ইত্যাদি লইয়া মাদরাসার নামীয় ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করিয়া অন্যায়ভাবে মাদরাসার জমি দখলের উদ্দেশ্যে জমিতে সার দিতে গেলে এ সময় মাদরাসার কেয়ারটেকাররা তাঁদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এতে মাদরাসার কেয়ারটেকার ময়নুল ইসলাম (২৮), মাজেদুল ইসলাম (৫০), মতিয়ার রহমান (৬৫), হবিবর রহমান (৫৫) ও শাহিন মিয়া (৩০) আহত হন। তাঁদের মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত হবিবর রহমানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মো. আনিছুর রহমানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে পীরগঞ্জ থানায় এজাহার দিয়েছেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।