1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
প্রাথমিক শিক্ষকের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ১৫ জেলায় নিয়োগপত্র পাননি ৩৫১ জন | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

প্রাথমিক শিক্ষকের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ১৫ জেলায় নিয়োগপত্র পাননি ৩৫১ জন

সকালের বাণী ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ জন দেখেছেন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েছিলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিয়েছেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও। এরপর অপেক্ষা ছিল নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়োগের আদেশ জারির পর তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে পাননি অনেক প্রার্থী। এখন পর্যন্ত ১৫ জেলার অন্তত ৩৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেইল। এর বাইরে আরও কয়েকটি জেলায় একই অভিযোগ উঠলেও সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।

কী কারণে চূড়ান্ত ফলাফলে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরও এতসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যাও মিলছে না। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদন, জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসামঞ্জস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট উপজেলায় শূন্যপদের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে কারও নিয়োগ আটকে থাকতে পারে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের আদেশ জারি করে। এসব আদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৫ জেলায় নিয়োগপত্র না পাওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর সংখ্যা ৩৫১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জে ১২০ জন। এরপর বগুড়ায় ৪৮ জন ও পাবনায় ৩৫ জন নিয়োগপত্র পাননি।

এ ছাড়া চাঁদপুরে ২৭ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ জন, মানিকগঞ্জে ২২ জন, কুষ্টিয়ায় ১৬ জন, রাজবাড়ীতে ১৫ জন, ফরিদপুর ও ঝালকাঠিতে ১২ জন করে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাতজন, শরীয়তপুরে ছয়জন, মুন্সিগঞ্জ ও পাবনায় তিনজন করে এবং সাতক্ষীরা ও লক্ষ্মীপুরে দুজন করে প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এই হিসাবেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। আরও কয়েকটি জেলায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও প্রার্থীদের নাম নিয়োগের আদেশে না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেসব জেলায় কতজন বাদ পড়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই বলছেন, নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তারা। এরপরও কী কারণে তাদের নাম নিয়োগের তালিকায় নেই, সে বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মেধাতালিকায় ওপরের দিকে থাকা সুপারিশপ্রাপ্ত এক প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘নির্দেশনা মেনে আমি সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। পুলিশ ভেরিফিকেশনেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বর্তমান সরকারে থাকা বিএনপির রাজনীতি করে আমার পরিবার। কিন্তু ঠিক কী কারণে আমার নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না।’

নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে ঝিনাইদহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতেও তারা রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আপনি মহাপরিচালক অথবা পলিসি অ্যান্ড অপারেশন শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কয়েকটি কারণে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র আটকে থাকতে পারে। এর মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদন, জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসামঞ্জস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট উপজেলায় শূন্যপদের বিষয় থাকতে পারে।’

তবে ৩৫১ জনের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

এ অবস্থায় নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল। তখন জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এমসিকিউ পদ্ধতির ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )