1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
হাইকোর্টের ২২ অতিরিক্ত বিচারপতির আগাম স্থায়ীকরণে প্রশ্নের মুখে প্রথা | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

হাইকোর্টের ২২ অতিরিক্ত বিচারপতির আগাম স্থায়ীকরণে প্রশ্নের মুখে প্রথা

ঢাকা অফিস
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছেন
সংবিধান ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিচারিক প্রথা অনুসরণ না করে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২২ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় উচ্চ আদালত ও আইনাঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মেয়াদকালেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত বিচারপতিদের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই স্থায়ী করা এবং তাঁদের কয়েকজনের কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় না থাকা—দুই বিষয়ই উচ্চ আদালতের প্রচলিত রীতি ও বিচারিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অনধিক দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে তাঁদের বিচারিক দক্ষতা, মামলার নিষ্পত্তির গতি, রায় লেখার সক্ষমতা এবং আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে তাঁদের কর্মদক্ষতা ও সামগ্রিক বিচারিক কার্যক্রম পর্যালোচনার ভিত্তিতে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের আওতায় স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বর্তমান ও সাবেক বিচারপতির সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে জানা গেছে, অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী করার সুপারিশের ক্ষেত্রে সাধারণত তাঁর লেখা পূর্ণাঙ্গ রায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, অন্তত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনার পর প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিরা তাঁর বিচারিক দক্ষতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হলে স্থায়ীকরণের সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে কোনো বিচারপতির কাজ সন্তোষজনক মনে না হলে তাঁর অতিরিক্ত বিচারপতির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আবার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না হলে স্থায়ী নিয়োগ না দেওয়ার নজিরও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিচারপতি ও আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বিচারপতির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার এমন দৃষ্টান্ত অতীতে দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ পান।
এর প্রায় এক বছর এক মাস পর, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ওই ২৩ জনের মধ্যে ২২ জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাঁদের দুই বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থায়ী নিয়োগ কার্যকর হয়।
অন্যদিকে, ওই সময় স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়া একজন অতিরিক্ত বিচারপতির মেয়াদ প্রাথমিকভাবে বাড়ানো হয়। পরে ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকেও স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এক বছর এক মাসের মাথায় স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ২২ বিচারপতির মধ্যে এমন বিচারপতিও রয়েছেন, যাঁরা স্থায়ীকরণের আগে কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় দেননি।
এ বিষয়টি নিয়েই মূলত বিচারাঙ্গনে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একাংশ জানতে চাইছেন, দুই বছরের প্রচলিত পর্যবেক্ষণকাল শেষ হওয়ার আগেই যদি স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদের বিচারিক দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে কোনো পূর্ণাঙ্গ রায় না লেখার পরও স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইনাঙ্গনের একটি অংশে অসন্তোষ ও সমালোচনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, প্রচলিত বিচারিক রীতি ও নির্ধারিত সময়সীমার আগে অতিরিক্ত বিচারপতিদের স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন বা অন্য কোনো ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।
তবে শেষ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়া ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে ওই ২২ বিচারপতিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থায়ী করা হয়েছে, সেটিই বর্তমানে উচ্চ আদালত ও আইনাঙ্গনের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )