


নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়ে আসা প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে এস এ পরিবহন পার্সেল অফিসের সামনে ওই সব নেশা জাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী কার্যালয়ের একটি দল। এ সময় এন্তাজুল ইসলাম (৩২) নামে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী জেলা কার্যালয় গোপন সূত্রে খবর পায় চট্টগ্রাম থেকে এস এ পরিবহনে মাদকের একটি বড় চালান সৈয়দপুরে আসছে। গতকাল মঙ্গলবার এমন খবর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির সদস্যরা সকাল থেকে সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে এস এ পরিবহন পার্সেল অফিসের আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে ওই পার্সেল অফিস থেকে প্লাস্টিকের বড় আকৃতির একটি বস্তা নিয়ে রিক্সাভ্যানে তুলে এন্তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বস্তা কি রয়েছে বলে এন্তাজুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে সে তাদের সামনে অসংলগ্ন কথাবার্তা বললে সেখানে প্লাস্টিকের বস্তাটি খুলে নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বহনের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে এন্তাজুলকে আটক করা হয়েছে।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত ওই বস্তায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের ২০০ প্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০০টি করে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট রয়েছে। এ সবের আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক এনামুল হক বাদী হয়ে মাদক আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় এন্তাজুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নীলফামারী জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এন্তাজুল ইসলাম সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের দলুয়া মুন্সিপাড়ার নুর ইসলামের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক (এডি) মো. শরিফ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত এন্তাজুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এছাড়া এর সঙ্গে একজন গডফাদার রয়েছে বলে জানায় এন্তাজুল। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের চালানটি ঢাকা থেকে বুকিং দেয়া হয়েছিল। বুকিং মেমোতে যে মোবাইল নম্বর দেয়া রয়েছে, সেটি বন্ধ রয়েছে।