1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বিতর্কে দুর্নীতিগ্রস্থ বিচারক | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বিতর্কে দুর্নীতিগ্রস্থ বিচারক

পঞ্চগড় অফিস
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫
  • ১৬৫ জন দেখেছেন
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁও এর সহযোগিতায় পঞ্চগড় জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা কৃষক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় বিতর্কিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান “পরস্পর”-এর ম্যানেজার আমিনুন্নাহার পিয়া। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এমন একজনকে বিচারক নির্বাচনের ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা” শীর্ষক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। এতে জেলার ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আমিনুন্নাহার পিয়া পঞ্চগড় পৌরসভার ডোকরোপাড়া এলাকার বাবুল হোসেনের স্ত্রী। তিনি জেলা কৃষক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। তার বড় বোন আক্তারুনন্নাহার সাকি পঞ্চগড় পৌর কৃষকলীগের সভাপতি।
জানা যায়, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান “পরস্পর মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও পরস্পর গ্রন্থাগারটির নামে জেলা পরিষদ থেকে বার বার বরাদ্দ এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অনুদানসহ প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মাসাতের অভিযোগে রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আমিনুন্নাহার পিয়া ও তার বোন আক্তারুনন্নাহার সাকিকে নিয়ে সম্প্রতি একাধিক সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে বির্তক প্রতিযোগিতায় এসেছি, অথচ বিচারকের আসনে দুর্নীতির প্রতীক বসে আছেন – এটা খুবই হতাশাজনক।”
তিনি আরো বলেন, “পঞ্চগড় জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ফ্যাসিবাদের আমলে গঠিত।এই কমিটির উপর এখন আর কারো আস্থা নেই। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তারা বিচারকের আসনে বসার যোগ্যতা রাখে না। কমিটিতে থাকার যোগ্যতাও রাখে না। যারা ফ্যাসিবাদের দোসর তাদেরকেও দূর্তীনি প্রতিরোধ কমিটিতে রাখা উচিত নয়। “
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটয়ের এক শিক্ষক বলেন, আমি পঞ্চগড় জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কেউ না। আমি বিদ্যালয় থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য টিম নিয়ে গিয়েছি। সত্যিকার অর্থে যারা আয়োজন করেছেন তাদের উচিত হয়নি এমন দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে বিচারকের আসনে বসানো।”
পঞ্চগড় জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. খালেদ তৌহিদ পুলক বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, “বিচারক নির্বাচনের দায়িত্বে আমি ছিলাম না। আমার জানামতে বিচারক হিসেবে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের নির্বাচিত করা হয়েছে। আমিনুন্নাহার পিয়া সম্পর্কে আমার জানা ছিলো না। তার বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ থাকে, আমরা অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল যাতে না হয় তা নিশ্চিত করব।”
সচেতন মহল মনে করছে, দুর্নীতি প্রতিরোধে বার্তা ছড়িয়ে দিতে হলে প্রথমে নিজেদের প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত রাখতে হবে। নয়তো এমন আয়োজন নিছক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হতে পারে। পঞ্চগড় জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ফ্যাসিবাদের আমলে গঠিত। এটি ভেঙে নতুন কমিটি গড়ার দাবিও জানান তারা।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল। রানার্সআপ হয়েছেন হান্নান শেখ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের দল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )