1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পীরগঞ্জে বারোমাসেই তৈরি হয় গুড় | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন

পীরগঞ্জে বারোমাসেই তৈরি হয় গুড়

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫
  • ১৪৩ জন দেখেছেন

রংপুরের পীরগঞ্জে বারোমাস চিটা ও নালিগুড়ে চিনি মিশিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। মদনখালী ইউনিয়নের খালাশপীর ও চতরা ইউনিয়নের যাদবপুরে রমরমাভাবে এ কারবার চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীর (ঠাকুদাস লক্ষ্মিপুর তেলি পাড়া) গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে হাফিজার রহমানের গুড় তৈরির কারখানা আখ না থাকলেও বন্ধ হয় না কোনোদিন।
তার কারখানায় নির্বিঘ্নে আখের রসের পরিবর্তে ময়দা, চিনি, হাইড্রোজ, সোডা ও গো-খাদ্য চিটা ও নালিগুড়ে চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হয় ভেজাল গুড়। মানবদেহের ক্ষতিকর বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে চুল্লিতে আগুন দিয়ে কড়াইয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়। ২ থেকে ৩ জন শ্রমিক গুড় তৈরি করে মাটির পাত্র বা চাড়িতে মজুদ করে। নিজ এলাকায় এই গুড় সরবরাহ না করলেও অপরিচিত এলাকায় পাইকারি বাজারে আমদানি করে থাকেন তারা।
অপরদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার যাদবপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মোনাজ্জল হোসেনও একই পন্থায় আখের রস ছাড়াই গুড় তৈরি করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। এলাকাবাসীর জানায় প্রতি সোমবার এবং বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এই গুড় তৈরি করা হয়। বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ করে লোকচক্ষুর আড়ালে গুড় তৈরি করা হয়।
লোকজন ঢুকতে পারে না কিন্তু বাহির থেকে গুড়ের গন্ধ অনুভব করে থাকেন এলাকার লোকজন। এবিষয়ে অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের লোকজন ব্যবস্থাগ্রহণ করে না বলে এলাকাবাসীর দাবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানায় এক শ্রমিক জানান, খালাশপীর (তেলী পাড়া) কারখানায় নালি গুড়,চিটা গুড়, সুজি, ময়দা, পানি, চিনি এবং রং দিয়ে তৈরি করা হয় ভেজাল গুড়। এই গুড় এলাকায় বিক্রি করা হয় না এমনকি নিজেরাও কখনো খাই না। আখ মৌসুমে এখানে আখের রস চিবিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। কৃষি মাঠে আখ বা (কুসার) না থাকলে তখন বিকল্প পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় গুড়। উপজেলা প্রশাসন এই কারখানার খোঁজ খবরও নেয় না। তবে উপজেলা স্যানেটারি অফিসার তিনি নাকি এখান থেকে মাসোহারা পায় তাছাড়াও এলাকাবাসীরও কোন অভিযোগ নেই, যে কারণে গুড় এই কারখানায় সকাল বিকাল তৈরি করা হয়।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, প্রশাসনের তদারকি একেবারেই নেই এই কারখানাগুলোতে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ভেজাল গুড় তৈরির জন্য উপজেলা স্যানেটারি অফিসার দায়ী। কারখানায় নোংরা পরিবেশে খালি গায়ে হাতে মুঠোয় শরীরের ঘাম দিয়েই গুড় তৈরি কাজে ব্যস্ত শ্রমিকেরা, মশা মাছি তো লেগে আছেই গুড়ে। যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমানে চিনির বাজার একটু কম, চিনির সাথে ময়দা সুজি,রং,চিটা ও নালি মিশিয়ে গুড় তৈরি করেন।
এবিষয়ে কারখানার মালিকরা কোন কথা বলতে রাজি নন। বরং প্রতিবেদক দেখে পালিয়ে থাকার চেষ্টা করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্যানেটারি পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা জানান, খোঁজ নিয়ে ভেজাল গুড় তৈরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )