
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার শল্লার বিল আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে অন্নদানগর ইউনিয়নের হাজিরবাজারে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ভূমিহীনরা।এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়ার কথা ছিল ভূমিহীনদের, কিন্তু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে। এই দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে দুদককে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমে তদন্ত করতে দাবি জানানো হয়।’
মানববন্ধনে স্থানীয় ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ, তরুণ সমাজকর্মীরা অংশ নেন। তারা প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে ঘর বরাদ্দ, দুর্নীতির তদন্ত দ্রুত শেষ করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এর আগে গত ২৫ জুন ‘সকালের বাণী’ পত্রিকায় “পীরগাছায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি, ইউএনওর ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পরপরই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নড়েচড়ে বসে।
গত ৩ জুলাই দুপুরে দুদক রংপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল শল্লার বিল আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জয়ন্ত সাহা ও কোর্ট পরিদর্শক মো. হোসেন আলী উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে গিয়ে তারা আশ্রিতদের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ শোনেন। অভিযোগ ছিল, ঘর বরাদ্দে ১০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায়, ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিত্তবানদের ঘর বরাদ্দ, এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ।
দুদক কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। ঘর নির্মাণের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে চূড়ান্ত তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’ সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় শল্লার বিলে ৪৩০টি ঘর নির্মাণের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ঘর থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা করে মোট ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
মাটি ভরাটের জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৫৬৬ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ থাকলেও অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ৫-৬ ফুটের পরিবর্তে মাত্র ১.৫ থেকে ৩ ফুট মাটি ভরাট করা হয়। পরে অতিরিক্ত মাটি কেটে বিক্রি করে প্রায় ৪ কোটি টাকার আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, পানি-বিদ্যুৎ সংযোগসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা না থাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এই প্রকল্পের পুরো কার্যক্রমে সাবেক ইউএনও নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। তিনি একাধিক দফায় ঘর বরাদ্দে নিজের ‘টোকেন’ ব্যবহার করে উৎকোচ আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।তাকে সহায়তা করেন অন্নদানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান সংগ্রাম। অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমে দলীয় লোকদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়েও তিনি জড়িত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, ‘একটি প্রকল্পকে কলঙ্কিত করেছে একটি দুর্নীতিবাজ চক্র। আমরা চাই, দুদক দ্রুত তদন্ত শেষ করুক এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করুক। প্রকৃত ভূমিহীনদের যেন বঞ্চিত না হতে হয়।
Related