নাজেমুল ইসলাম প্রধান নয়ন ১৯৬৮ সালের ১লা ডিসেম্বর গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের চন্দনপাট গ্রামে জন্মগ্রহন করেন৷ তার পিতা মো: আব্দুল্লা প্রধান এবং মাতা মোছা: মোমেনা বেগম। ছোটবেলা থেকেই তিনি কর্মট, সৎ ছিলেন ও রাজনীতির প্রতি তার একটি বিশেষ টান ছিল৷ ওসমানের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাফল্যের সাথে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করেন।
এরপর ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বোর্ড থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন৷ পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য নিজ জন্মস্থান ত্যাগ করে রাজশাহীতে পাড়ি জমান। ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স পাশ করেন। শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকার কারণে তিনি শুধুমাত্র বিএ পাশ করেই থেমে থাকেন নি। ২০০৬ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম পাশ করে শিক্ষাজীবনের ইতি টানেন। বর্তমানে তিনি অ্যাডভোকেট পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
জানা যায়, তার বাবা একজন প্রখ্যাত বিএনপি নেতা ছিলেন এবং পরিবারের হাত ধরেই নয়ন জেনারেল ইরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৮ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তার পরবর্তী সময় থেকে আজ অবদি নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু একাধিক বার মনোনয়ন ক্রয় করার পরও তিনি ধানের শীষের মনোনয়ন পান নি।
এছাড়াও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সাঘাটা-ফুলছড়ির মানুষের সেবা করার জন্য মনোনয়ন কিনেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সেসময় হাসান আলীকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বিএনপির মনোনয়ন সর্ম্পকিত প্রতিবেদনে তার নাম প্রকাশ করা হলেও তিনি মনোনয়ন পান নি। মনোনয়নে জন্য বার-বার চেষ্টা করেও হোঁচট খেয়েছেন জনবান্ধন এই নেতা। তবে দলের প্রতি তার নিষ্ঠা ও অবদানের মূল্যয়ন হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিবে বলে আশাবাদী তিনি।
বর্তমানে নাজেমুল ইসলাম প্রধান নয়ন সমাজ সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি নিজ তহবিল থেকে স্থানীয় গরীর শিক্ষার্থীদের অর্থ প্রদান, নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকার দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষকে অর্থ সহায়তা ও তাদের পাশে দাড়াচ্ছেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, শীতে দুস্থদের কম্বল বিতরণ, মসজিদ-মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ সমাজ পরিবর্তনে তার অশেষ ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে।
মনোনয়ন প্রত্যাশি নাজেমুল ইসলাম প্রধান নয়ন বলেন, বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি আদর্শ, একটি স্বপ্ন, একটি আন্দোলনের নাম। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা এই দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এই দলের জন্য কাজ করার আগ্রহ আমার হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে এসেছে। তাই আমি আশাবাদী যে, দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। আমি মনোনীত হলে নিজের অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সমস্ত নির্বাচন ব্যয় বহন করবো। চরের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে চর-উন্নয়ন বোর্ড গঠন করব। সাধারণ মেহনতী মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করব। নদী-ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে প্রয়োজনে শিল্প কারখানা গড়ে তুলব। তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। বালাশী থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত ট্যানেল নির্মাণ করবো। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় আমি অবশ্যই জয়লাভ করব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে একটি আসন উপহার দিব।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সাল থেকে নাজেমুল ইসলাম প্রধান নয়ন আজ অবদি পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দলীয় সকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহনসহ দলকে শক্তিশালী করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাজেমুল ইসলাম প্রধান নয়নের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্রময়। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে জেলার শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি দলের বিভিন্ন গুরুত্বর্পূর্র্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে সংগঠিত করেছেন এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।