


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ট্রাক চাপায় প্রাণ হারালেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ এম এ আউয়াল সরকার (৫৫)। তিনি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম (গাজীর মোড়) গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী ব্যাপারীর ছেলে।
সোমবার সকাল ৮ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, এর আগে গত রোববার রাত ১০ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ-রংপুর আঞ্চলিক সড়কের বামনডাঙ্গা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
ওসি আরও বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান ওসি। স্থানীয়রা জানান, এম এ আউয়াল সরকার মোটর সাইকেলের পেছনে বসে গাইবান্ধা শহর থেকে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। ঘটনাস্থলে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। তবে মোটরসাইকেল ও চালক অক্ষত আছেন।
মোটরসাইকেল চালক মো. আসাদুল ইসলাম (৫০) বলেন, সামন থেকে একটা ট্রাক আসতেছিলো। আমারা এক সাইড নেই। মোটরসাইকেল স্লো ছিলো। শেষে ব্রেক করি। পরে একটা ধাক্কা অনুভব করি। এরপর উনি এক পার্শ্বে পরে যান আমি এক পার্শ্বে পরে যাই। উঠে দেখি দুই-চারজন এসেছে এবং স্যার অসুস্থ। বাড়িতে ফোন দেই কেউ ধরে না। পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়িতে আসি। এরপর স্যারের ছেলেকে এবং ভাবীকে বলি। তারা আমাকে নিয়ে আবারও ঘটনাস্থলে যায়। এসে দেখি স্যার আর নাই। পরিবার সুত্র জানায়, ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে ১৯৯৮ সালে সহকারী জজ হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পেশাজীবনে রংপুর, লালমনিরহাট, বাগেরহাট, গাজীপুর, ঢাকা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তাকে বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠায় সরকার। এরপর থেকে তিনি গাইবান্ধার আদালতে মাঝেমধ্যে আইনজীবি হিসেবে প্রাকটিস করতেন- বলে জানান, তার সহকর্মীরা।