
কক্সবাজারের টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে হাজার কিলোমিটার পথ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্যেশ্যে গত ২১ এপ্রিল দৌড়ে ও সাইকেল চালিয়ে পাড়ি দেয়ার এক চ্যালেঞ্জিং যাত্রায় নামে চার তরুণ। এই চার তরুণের মধ্যে তিনজন দৌড়ে ও অন্যজন তাঁদের সঙ্গে ছুটে চলেন বাইসাইকেলে করে।অবশেষে আজ আজ শুক্রবার ১৭ দিন ১৪ ঘন্টা পর তারা এসে পৌছায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে।
তারা জানান, কক্সবাজারের টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় তাঁরা পরিবেশ রক্ষা, নারী শিক্ষা ও শিশুস্বাস্থ্যের পক্ষে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন । পথে পথে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা দ্রুততম সময়ে দৌড়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পৌঁছার নতুন রেকর্ড গড়তে চেয়েছিলেন ।কেবল সামাজিক বার্তাই নয়, এই দৌড়বিদদের আরেকটি লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে ‘আয়রনম্যান’ প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা।
অভিযান চলাকালীন তরুণদের নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। কখনো প্রখর রোদ, কখনো মুষলধারে বৃষ্টি, আবার কখনো গভীর রাতে নির্জন মহাসড়ক।এই দীর্ঘ যাত্রায় তরুণদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো যমুনা নদীর পার হওয়া। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তারা প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ সাঁতরে পার হন।
এই চার তরুণরা হলেন নোয়াখালীর আসিফুল হক (পাভেল), টাঙ্গাইলের এহসানুল হক (সানি), পঞ্চগড়ের আসিফ আকবর ও কক্সবাজারের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাইকেলে এবং বাকি তিনজন দৌড়ে এই পথ পাড়ি দেন । দলটির নেতৃত্বে ছিলেন আসিফুল হক।
তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দলের সদস্যরা। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিজয়ের হাসিতে তাঁরা বলেন , এটি কেবল একটি ম্যারাথন ছিল না, বরং তরুণদের ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। তাঁদের মতে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো সীমাবদ্ধতা জয় করে বড় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
এই চ্যালেঞ্জে টাইটেল স্পনসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড। এ ছাড়া সহযোগিতা করছে ওয়েভ লাইফস্টাইল, ব্রাদার্স ইউনাইটেড ক্লাব, ট্রাভেলগ্রাফ, বৈরাগ মুন্সী সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড, ওয়্যার কালেক্টস ও রান ফর বাংলাদেশসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
Related