


কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুইপক্ষের দ্বন্দ্বের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার জায়গায় স্কুল পুনঃনির্মাণের তোড়জোড় চলছে। ভোট কেন্দ্রের রাজনীতির এই কৌশল বুঝতে পারেনি প্রশাসন। এর আগে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙে নিয়ে স্কুলের খুঁটি লাগাতে যান শিক্ষক সমিতির সভাপতি। পরে স্থানীয়দের তোপে মুখে পড়েন তিনি। জানা গেছে, উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ শিক্ষার্থী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা বঞ্চিত। গত বছর ভয়াবহ নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের জন্য নতুন স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে আজও কোনো সমাধান হয়নি। বিদ্যালয়ের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণে প্রশাসন তিন দফা পরিদর্শন করলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের বিরোধিতার কারণে স্থান নির্ধারণ আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। স্থানীয়দের দাবি, একজন রাজনৈতিক নেতার স্বার্থরক্ষার কারণে ১৫০ শিক্ষার্থী আজ অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এদিকে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার জায়গায় স্কুল নির্মাণের জন্য জমি দলিল পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতেন না। শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় আওয়ামী সুবিধাভোগীদের তোড়জোড়ে তৃতীয় স্থান নির্ধারিত প্রক্রিয়াধীন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকাবাসীকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের চিলমারী ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সহযোগিতার ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মৃত্যু অহেদ আলীর জমিতে চর শাখাহাতী ১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সেখানে সম্প্রতি স্কুলের খুঁটি লাগান উপজেলা শিক্ষকদের সভাপতি আ. মান্নান। পরে স্থানীয়দের তোপের মূখে পরে ফেরত আসেন তিনি।
অভিভাবক লুৎফর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা হচ্ছে। একটি স্কুল কোথায় হবে, তা নিয়ে টানাপড়েন চলতে পারে, কিন্তু এতদিন ধরে বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ থাকা মেনে নেওয়া যায় না।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু অজানা কারণে এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর ফলে বিদ্যালয় পুনর্গঠন আটকে আছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন যদি যথাযথ সিদ্ধান্ত নিত,তবে এতদিনে নতুন ভবন নির্মাণ শুরু হয়ে যেত।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, স্কুলের জিনিসপত্র এভাবে নষ্ট হচ্ছে, অথচ শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ। এটা শুধু অবহেলা নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ও।বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী মোনতোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে তারা কার্যত অলস, কারণ পড়ানোর মতো শিক্ষার্থী তাদের নেই। এতে শিক্ষকরা যেমন হতাশ, তেমনি শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রাপ্য শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।
চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অচলাবস্থা শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয় হারানো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে,কিন্তু পুনর্গঠন আটকে রাখা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট সমস্যা। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একটি প্রজন্মের শিক্ষা বন্ধ থাকা জাতির জন্য অশনিসংকেত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, যেহেতু দুইটা গ্রুপ এইজন্য মাঝামাঝি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রাথমিক অধিদপ্তর থেকে আমাদেরকে জায়গা নির্ধারণের চিঠি করতে বলা হয়। পরে আমরা জমির রেজিস্ট্রি সহ ফরম পূরণ করে কাগজপত্র ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি।