


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর চিনিকল চালুর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত ছাড় ও সংস্কার কাজ শুরু করার দাবিতে স্বারকলিপি প্রদান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ চিনিকলের মুলফটকে সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রবীণ কৃষক নেতা কমরেড টিপু বিশ্বাস, সভাপতি, জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতি ও সমন্বয়ক, জাতীয় গণফ্রন্ট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিল্লুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কামরুজ্জামান ফিরোজ, সদস্য, বন্ধ চিনিকল চালুকরণ টাস্কফোর্স কমিটি।বোচাগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রেদওয়ানুল কারীম রাবীদ।ছাত্র নেতা ফাহাদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ ফারদিন হাসিম প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বদরুদ্দোজা (বাপন), আহ্বায়ক, সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদ, এবং সঞ্চালনা করেন সোহাগ হোসেন, সদস্য সচিব, একই পরিষদ। বক্তারা বলেন, বিগত পতিত স্বৈরাচারী সরকারের রাষ্ট্রীয় শিল্প ধ্বংসের নীতির ফলশ্রুতিতে ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয়টি চালু চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদ বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানায়। গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর দুটি করে পর্যায়ক্রমে ছয়টি চিনিকল চালুর অনুমোদন দেন এবং সেই অনুযায়ী বাজেটও গৃহীত হয়। কিন্তু প্রথম ধাপে সেতাবগঞ্জ চিনিকলের জন্য ৮ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা এবং শ্যামপুর চিনিকলের জন্য ৫ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছাড়ের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় তা ছাড় করেনি।
বক্তাদের অভিযোগ, সেপ্টেম্বর থেকে আখ চাষের মৌসুম শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট চিনিকলগুলো এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার ও এলাকার কিছু প্রভাবশালী সাংসদের চক্রান্তে চিনিকলগুলোর বিপুল সম্পদ লুণ্ঠন ও দখলের উদ্দেশ্যে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারা বলেন, আখচাষী ও চিনিকল শ্রমিকদের দীর্ঘ চার বছরের আন্দোলনের ফলেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বরাদ্দকৃত বাজেট ছাড় না হওয়ায় আখচাষীরা আবারও হতাশায় পড়েছেন।
বক্তারা অবিলম্বে সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর চিনিকলের বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় দিয়ে সংস্কার কাজ শুরু এবং চিনিকল পুনঃচালুর দাবি জানান, যাতে এ অঞ্চলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার হয় ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ সেতাবগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ আবুল বাশারের মাধ্যমে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় কৃষিবিদ আবুল বাশার বলেন, আপনারা যে স্মারকলিপি দিয়েছেন, এটি আমি মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে পৌঁছে দেব। আপনাদের দাবির সঙ্গে আমিও একমত। এই চিনিকল বন্ধ হওয়ার পর এখানকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছে। এলাকার বহু মানুষের রুজি-রোজগারের বিষয়টি এ কলের সঙ্গে জড়িত ছিল। মিল বন্ধ হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।