মিনহাজ উদ্দিন উপজেলার রণগাঁও ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। ২০২৫ সালে চণ্ডীপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে ঢাকার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন।
আলিম পরীক্ষা শেষ করার পর শখের বসে দুই প্যাকেট তরমুজের বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন মিনহাজ। প্রথমবার ভালো ফলন পাওয়ার পর কৃষির প্রতি তার আগ্রহ আরও বাড়ে। পরে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেন তিনি। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে এবার বড় পরিসরে তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেন।
নিজের অর্থায়নে মালচিং পদ্ধতিতে মাচায় দুই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন মিনহাজ। এর মধ্যে ‘সূর্য ডিম’ নামের হলুদ রঙের তরমুজটি বাইরে থেকে বীজ সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে চাষ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ‘মার্সেলো’ জাতের কালো তরমুজটি কৃষি অফিসের সরকারি একক ফল বাগান প্রদর্শনীর আওতায় চাষ করেছেন।
প্রায় ৫০ শতক জমি লিজসহ তরমুজ চাষে মিনহাজের খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে হারভেস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রায় তিন লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন মিনহাজ।
মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘শখের বসে দুই প্যাকেট বীজ দিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেছিলাম। প্রথমবার ভালো ফলন পাওয়ার পর মনে হয়েছে, পড়াশোনার পাশাপাশি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে করা সম্ভব। এবার ৫০ শতক জমিতে চাষ করেছি। জমি লিজসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় তিন লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ করছি। যারা লেখাপড়া করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তারা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে আমার মতো উদ্যোক্তা হতে পারেন। কৃষিকে কাজে লাগিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মো. মিনহাজ উদ্দিনকে একক ফল বাগান প্রদর্শনীর মাচায় তরমুজ চাষ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম নিয়মিত মাচায় তরমুজ চাষে তাকে কারিগরি পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মিনহাজ উদ্দিনের উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। সে একজন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী হয়েও পড়াশোনার পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে নিজের উদ্যোগে নতুন জাতের তরমুজ চাষের পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রদর্শনীর আওতায় আরেকটি জাতের তরমুজ চাষ করছে। শিক্ষিত তরুণরা কৃষিকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যম হিসেবেও নিতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে তরুণদের জন্য কৃষিতে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘রণগাঁও টেকসই কৃষি উন্নয়ন কৃষক গ্রুপ’-এর মাধ্যমে সরকারি একক ফল বাগান প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় ‘মার্সেলো’ জাতের কালো তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি মিনহাজের এই উদ্যোগ কৃষিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। চাকরির অপেক্ষায় না থেকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও দেখাচ্ছে তার এই উদ্যোগ।