


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘোষণা দেওয়া বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা নাহিদুজ্জামান নিশাদের মোটরসাইকেল শোডাউন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) নাহিদুজ্জামান নিশাদের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল শোডাউনটি ফুলছড়ি উপজেলা সদরে দুই দফায় বাধা দেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকারের সমর্থকরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ তার অনুসারীদের নিয়ে একটি বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন বের করেন। শোডাউনটি প্রথমে সাঘাটা উপজেলায় বাধার সম্মুখীন হয়। এরপর দুপুরে এটি ফুলছড়ি উপজেলায় প্রবেশ করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। উপজেলা সদরের থানামোড় বটতলা এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম সরকারের সমর্থক নেতাকর্মীরা শোডাউনে বাধা দেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হলে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ফুলছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দু’পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
পুলিশের হস্তক্ষেপে শোডাউনটি কঞ্চিপাড়া অভিমুখে এগিয়ে যেতে ধরলে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে তারা আবারও ফারুক আলম সরকারের সমর্থক নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনা বাড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিশাদপন্থী নেতাকর্মীরা দাবি করেন, তাদের এই কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের প্রচারে বাধা দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ওমর ফারুক বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বহিষ্কৃত নেতার এমন শোডাউন আয়োজন নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা মাত্র। এ ঘটনার প্রতিবাদে আমরা ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছি।’
বাধা প্রদানের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নাহিদুজ্জামান নিশাদ বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। আজ আমার শান্তিপূর্ণ শোডাউনে যেভাবে বাধা দেওয়া হলো, তাতে এই আসনে আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ কেমন হতে চলেছে, তা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হচ্ছে। আমি এই হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’