আলমবিদিতর চওড়াপাড় এলাকার মৃত নূর উদ্দীনের ছেলে মো: আনছার আলী (মাস্টার) গত ০১/০৬/১৯৯৪ তারিখে ১৮৯০ নং দলীলে জেএল নং – ৬৫, খতিয়ান ১০৫৪ এবং দাগ নং ৫৫৫৯ উল্লেখ করে ৭৮ শতক জমি একই এলাকার মৃত আব্দুল ওয়াহেদ সরকারের ছেলে মো: আব্দুর রহিমের নিকট বিক্রিয় করে।
পরবর্তীতে আব্দুর রহিম ১৭/১০/২০১৭ তারিখে রংপুর মহানগরীর ধাপ কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা মৃত মনির উদ্দীনের ছেলে মো: ইউসুফ আলীর নিকট ৩০ শতক জমি বিক্রি করে। দলীলে উল্লেখ রয়েছে মৌজা – আলমবিদিতর, জেএল নং – ৬৫, সাবেক খতিয়ান নং- ১০৫৪ যাহার বুজরত খতিয়ান নং – ৭৯৩৮ ও ১০৫৪ এবং ডিপি খতিয়ান নং ২৮৮৪,১৫৭১,১৫৯০ ও ৪৮৫। যাহার সাবেক দাগ – ৫৫৫৯ এবং নতুন দাগ – ৮৯৩৫, ৮৯১৭,৮৯৩১,৮৯৩০, ও ৮৯২৫ উল্লেখ রয়েছে।
তবে সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, আনছার আলী যে দাগ ও খতিয়ান উল্লেখ করে আব্দুর রহিমকে দলীল রেজিষ্ট্রি করে দেয় এবং সাবেক একই দাগ ও খতিয়ান উল্লেখের পাশাপাশি বুজরাত ও ডিপি খতিয়ান এবং সাবেক দাগ ও নতুন দাগ উল্লেখ করে আব্দুর রহিম ইউসুফ আলীর নিকট ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছেন ।
তবে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো , আব্দুর রহিম ইউসুফ আলীর নিকট পূর্বে বিক্রিয় করা জমির দাগ এই দলীলে উল্লেখ করেছেন এবং উল্লেখিত কিছু দাগ দলীলে উল্লেখিত খতিয়ান ভুক্ত না হলেও দলীলে উল্লেখ করেছেন। যা একজন সরল বিশ্বাসী মানুষের সাথে প্রতারণারই নামান্তর ।
এমতাবস্থায় আলোচনার ভিত্তিতে আব্দুর রহিম তারই মালিকানাভুক্ত ৮৯২৯ দাগের অন্তর্ভুক্ত ২৭ শতক জমি ইউসুফ আলীকে ভোগদখলের জন্য বঝে দেন এবং ৮৯১৭ দাগে ৩ শতক ভোগদখল বুঝে দেন হঠাৎ করে আব্দুর রহিম ৮৯২৯ দাগে ইউসুফ আলীকে বুঝে দেওয়া ভোগদখলকৃত ২৭ শতক জমি চাষ দিতে বাধা দেয়। ফলে ১৯/১০/২৫ তারিখে সকালে চাষ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুর রহিম মহামান্য কোর্টে মামলা আনয়ন করে এবং কোর্ট অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলে ইউসুফ আলীকে চরম বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। অথচ দীর্ঘ দিন ধরে ভোগদখলের নিরব স্বাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে ইউসুফ আলীর রোপনকৃত গাছপালা।
সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেশী নুরল হকের ছেলে মিলন মিয়া বলেন, এই জমি দীর্ঘদিন ধরে ইউসুফ আলী ভোগদখল করছে। দলীলে নতুন দাগ ভুল করে দিয়ে এই জমি বিক্রয় করে , এখন ভুল জমি চাষাবাদে বাঁধা প্রদান করে। অথচ অনেক আগেই ইউসুফ আলীর লাগানো গাছপালা জমিতে রয়েছে। পরে আব্দুর রহিম ইউসুফ আলীর নিকট উভয়ের চলাচলার জন্য ওই জমি থেকে ৪ শতক জমি কিনে রাস্তা করেছে।
হেলালী বেগম বলেন, এই জমি রহিমের নিকট ইউসুফ আলী কিনেছেন। পরে আমাদের নিকট ৮/৯ বছর আগে বন্ধক রেখেছেন। আমরাই এই জমি চাষাবাদ করছি।
এবিষয়ে আব্দুর রহিমের সাথে মুটোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি দুই দলীলে ইউসুফের নিকট ৭০ শতক জমি বিক্রয় করেছি। প্রথম দলীলে ৪০ শতক, পরে ৩০ শতক। পরে চার শতক জমি রাস্তার জন্য ইউসুফের কাছ থেকে কিনেছি । ইউসুফকে দাগ অনুপাতে জমি বুঝে দিয়েছি এবং সেভাবে তিনি ভোগও করছেন।
ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী বলেন, আব্দুর রহিম পূর্ব মালিকের নিকট হতে যে দাগ ও খতিয়ান মূলে জমি কিনেছেন আমাকেও একই দাগ ও খতিয়ানমূলে আব্দুর রহিম দলিল করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে খাজনাদি পরিশোধ পূর্বক ভোগদখল করছি। আমাকে হঠাৎ জমি চাষাবাদে বাঁধা দেওয়ায় আমি কোর্টে মামলা দায়ের করেছি।