1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
গঙ্গাচড়ার ১৭ শহীদ স্মরণে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিসৌধ নির্মানের দাবি: পূরণ হবে কবে?  | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

গঙ্গাচড়ার ১৭ শহীদ স্মরণে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিসৌধ নির্মানের দাবি: পূরণ হবে কবে? 

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৫ জন দেখেছেন
স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ প্রান্তে ১৩ ডিসেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ঘটে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, যা আজও স্থানীয়দের মনে গভীর বেদনা জাগায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের হাতে ১৭ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন।
নিহত শহীদ সহিদার রহমানের ছেলে মহুব আলী জানান, বাবাকে ব্রাশফায়ারে হারানোর পর পুরো এলাকা আতঙ্কময় ছিল। একা বাবার লাশ ঘারে নিয়ে যাওয়া সেই ভয়াল স্মৃতি আজও আমাকে শিহরিত করে । স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি, কোনো সরকারি স্বীকৃতি বা সহায়তা পাইনি। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ গ্রামে স্থানীয় রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় পাক সেনারা ব্রাশফায়ার ও বেওনেট চার্জে ১৭ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে। এতে ছয়জন মুসল্লি নামাজরত অবস্থায়, দশজন চলার পথে এবং একজন বেওনেট চার্জে প্রাণ হারান।
এর আগে ১২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের এক দল, কোম্পানি কমান্ডার মীর আব্দুস সালামের নেতৃত্বে গঙ্গাচড়া থানা আক্রমণ করে। পাকিস্তানি সেনারা থানা ত্যাগ করলেও ব্যারাক থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার হয়। পরদিন রংপুর সেনানিবাস থেকে হানাদার বাহিনী পুনরায় গঙ্গাচড়ায় প্রবেশ করে। পথে নিহত হন মফিজ উদ্দিন, ফজর উদ্দিন, আব্দুল আজিজ ও হবিবর রহমান।
বিকেলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী বকুলতলা পুরাতন মসজিদে নামাজরত ছয়জন মুসল্লি—মৌলভী তৈয়ব আলী, বছির উদ্দিন, সহির উদ্দিন, মহির উদ্দিন, নবির উদ্দিন ও তার সাত বছরের ছেলে—হানাদারদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন। একই দিনে রজনীকান্তের বাড়িতে নারী নির্যাতনের চেষ্টা করার প্রতিবাদে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর বেওনেট চার্জ করে তাকে হত্যা করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধারা তিস্তার চর ও মহিপুরে অবস্থানরত থাকাকালীন খবর পান পাক সেনারা গঙ্গাচড়া আক্রমণ করতে যাচ্ছে। এস এম মনিরুজ্জামান বাবলুর নেতৃত্বে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা নদী পার হয়ে মহিপুর এলাকায় পৌঁছে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। শংকরদহ মসজিদে পৌঁছে হানাদাররা নতুন করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এসময় আরও নিহত হন মুন্সি মঞ্জুম আলী, রহিম উদ্দিন, আকবর আলী, সহিদার রহমান, বদিউল ইসলাম ও আলী মাস্টার।
নিহতদের পরিবার আজও সামাজিক ও আর্থিক অবহেলায় জীবন কাটাচ্ছেন। কেউ দিনমজুরি করছেন, কেউ রিকশা-ভ্যান চালান। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পার হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো সহায়তা বা স্বীকৃতি মেলেনি।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজিজুল ইসলাম বলেন, ১৩ ডিসেম্বর গঙ্গাচড়ার ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও শোকের দিন। ১৭ জন শহীদের স্মৃতি ধরে রাখতে একটি সরকারি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ জরুরি।” তবে তিস্তার ভাঙনে শংকরদহ গ্রাম ও বকুলতলা পুরাতন মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে, যা ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের নীরব সাক্ষী ছিল।
আজও গঙ্গাচড়ার মানুষ সেই মসজিদ, সেই গ্রাম এবং ১৩ ডিসেম্বরের ভয়াল স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে বেঁচে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )