দুজনই শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের করুণ জীবনের চিত্র প্রকাশ পাওয়ার পর অবশেষে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অফিস এবং সৌদি আরব প্রবাসী মানবিক ব্যক্তি জহুরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবকালে তারামণি একটি মৃত সন্তান জন্ম দেন। ওই সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরবর্তীতে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইসড) হয়ে যান। এই সংকটময় সময়ে তার স্বামী তাকে তালাক দেন। এরপর থেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ ভাই জহুরুল হক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী বোন তারামণি পরস্পরের সহায়তায় অতি কষ্টে দিন কাটিয়ে আসছেন। অসুস্থ বোনের যাবতীয় দেখভাল করছেন ভাই জহুরুল হক।
আরও জানা যায়, তাদের একমাত্র আশ্রয় ও অভিভাবক বাবা কুটিল সওদাগর কিছুদিন আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর তাদের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা ও অনিশ্চয়তা।
২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় সমাজসেবা অফিস থেকে তারামণির কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক ফারুক হোসেন, ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল আহম্মেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় তারামণির জন্য একটি হুইলচেয়ার, একটি চৌকি, চাল, ডাল, তেল, তোষক, মশারি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি তারামণির জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সমাজসেবা কর্মকর্তা মোনোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় সমাজসেবা অফিস থেকে তারামণির জন্য সামান্য উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে এবং তার প্রতিবন্ধী ভাতার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সমাজসেবা অফিস সবসময় অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিক ফারুক হোসেন তার ‘ফুলছড়ি টিভি’ ফেসবুক পেজে মানবিক ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর সরকারিভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, সৌদি আরব প্রবাসী মানবিক ব্যক্তি প্রিন্স জহুরুল ইসলাম তারামণির জন্য একটি হুইলচেয়ার প্রদান করেছেন। এজন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সমাজের বিত্তবানরা যদি সম্মিলিতভাবে এ ধরনের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে তাদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।