


গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারে ২৫টি পরিবারের মাঝে ১০০টি ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেসরকারি সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউক) এর প্রধান কার্যালয়ে এসব ছাগল বিতরণ করা হয়। জিইউকে’র বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলায় ফুলছড়ি উপজেলায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারকরণ, দুর্যোগ এবং কার্বন নির্গমন কমানো বিষয়ের (প্রুফস) প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, টেকসই জীবিকায়ন উন্নয়ন এবং আর্থসামাজিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি এবং কার্বন নির্গমন কমানো। সংস্থাটি জানায়, বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গাইবান্ধা জেলার অনেক পরিবার নিয়মিত জীবিকা ও আয়ের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিকল্প ও টেকসই আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে পরিবারগুলোকে সম্পৃক্ত করতে প্রকল্পটির মাধ্যমে গবাদিপশু বিতরণ, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ও উড়িয়া ইউনিয়নের ৮টি গ্রামকে মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরঅংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১০০টি পরিবারের মাঝে গাভী, ৪৫০টি পরিবারের মাঝে ১৮০০টি ছাগল এবং ১১টি উন্নত জাতের পাঠা বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয়ে ফুলছড়ি উপজেলার নির্বাচিত ২৫টি পরিবারের মাঝে ১০০টি ছাগল বিতরণ করা হয়।
এসব ছাগল পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং স্বাবলম্বী জীবিকা গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফুলছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম। তিনি উপকারভোগীদের গবাদিপশু পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দেন। এ সময় গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা টীম, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকারভোগী মোছা. মর্জিনা বেগম বলেন, ‘এই ছাগলগুলো আমাদের পরিবারের জন্য বড় সহায়তা। এগুলো লালন-পালন করে আয় বাড়াতে পারব।’ আরেক উপকারভোগী মোছা. নাইমা খাতুন বলেন, ‘ছাগল পাওয়ার মাধ্যমে আমাদের পরিবারের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে সন্তানদের প্রয়োজন মেটানো সহজ হবে।’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক রোকনুদ্দৌলা বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।