1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
নতুন জরিপ প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

নতুন জরিপ প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭৩ জন দেখেছেন

দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- সেই প্রশ্নে আলোচনায় রয়েছেন দুইজন রাজনীতিবিদ। একজন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং অপরজন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সবশেষ জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭.৬ শতাংশ মানুষ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। আর ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন ২২.৫ শতাংশ মানুষ। ২ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং এই জরিপ প্রকাশ করেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, ভয়েস ফর রিফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্রেইনের সদস্য জ্যোতি রহমান এবং ইনোভেশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান।

Tareq11
প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়া জানান, রাউন্ড-৩ জরিপে মূলত ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের ভোট প্রদানের ইচ্ছা এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমত তুলে ধরা হয়েছে। এই রাউন্ডটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আগের রাউন্ডে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মতামতের পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জনমত পরিবর্তিত হতে পারে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেবেন বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ আবারও ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। যারা আগে ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর যারা আগে মতামত প্রকাশ করেননি, তাদের ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন।

প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২২ শতাংশ জানান, তারা গণভোটের বিষয়ে জানেন না। জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপের রাউন্ড-২-এর প্যানেল তথ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়।

জরিপের রাউন্ড-৩-এ ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে—যা রাউন্ড-২-এর তুলনায় বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা বেড়ে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন—এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। তবে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। রাউন্ড-২-এর তুলনায় বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ।

জরিপে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হবেন। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। ২ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এনসিপির আহ্বায়ক ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা জানেন না ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। এটি নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়।

Shafiq1
ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াত আমির। ছবি: সংগৃহীত

৭৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা কোন দলকে ভোট দেবেন, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—যা আগের রাউন্ডগুলোর তুলনায় বেশি। তবে নারী উত্তরদাতাদের ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। বিপরীতে পুরুষ উত্তরদাতাদের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ জানান, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জরিপে রাউন্ড-৩ এবং আগের রাউন্ডগুলোর মধ্যে ভোট পছন্দে পরিবর্তন দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রেখেছে এবং আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা কিছু ভোটার থেকেও সমর্থন পাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।

যারা তাদের ভোট পছন্দ জানিয়েছেন, তাদের মতে, বিএনপি ও তাদের জোট ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি।

Nahid
প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় আছেন নাহিদ ইসলামও। ছবি: সংগৃহীত

জরিপে দেখা যায়, আগে যারা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাদের মধ্য থেকে বিএনপি জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে।

জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে। জরিপে আরও দেখা যায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভোটব্যাংকে অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণা কৌশলের ধরন অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )