1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে অবদান যাঁদের | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে অবদান যাঁদের

ক্যারিয়ার ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৫ জন দেখেছেন

বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে অভাবনীয় অগ্রগতি, তার পেছনে রয়েছে বহু বিজ্ঞানী, স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবকের নিরলস সাধনা। তার ও তারহীন যোগাযোগব্যবস্থা, কম্পিউটারের গণনাশক্তির বিস্ময়কর বৃদ্ধি এবং মাইক্রো ইলেকট্রনিকসের বিকাশ—সব মিলিয়ে প্রযুক্তি আজ হাতের মুঠোয়। চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এগিয়ে থাকতে জেনে নেওয়া যাক আইসিটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কয়েকজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে।

চার্লস ব্যাবেজ
আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসেবে পরিচিত ইংরেজ গণিতবিদ ও প্রকৌশলী চার্লস ব্যাবেজ (১৭৯১-১৮৭১)। তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন নামে একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের নকশা তৈরি করেন। এটি বহুস্তরীয় গাণিতিক হিসাব করতে পারত। পরে তিনি আরও উন্নত অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের পরিকল্পনা করেন। এটি আধুনিক কম্পিউটারের ধারণার ভিত্তি স্থাপন করে। যদিও জীবদ্দশায় তিনি এগুলোর পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। ১৯৯১ সালে লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামে তাঁর মূল নকশা অনুযায়ী একটি কার্যক্ষম ইঞ্জিন তৈরি করা হয় এবং দেখা যায়, সেটি সঠিকভাবে কাজ করতে সম্ভম।

অ্যাডা লাভলেস
কবি লর্ড বায়রনের কন্যা অ্যাডা লাভলেস (১৮১৫-৫২) ছোটবেলা থেকে গণিত ও বিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন। ১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি ব্যাবেজের পরিকল্পিত অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করেন। ১৮৪৩ সালে ব্যাবেজের ইঞ্জিন নিয়ে লেখা এক প্রবন্ধ অনুবাদ করার সময় তিনি নিজের গবেষণালব্ধ কিছু নোট যোগ করেন। এটিই ছিল মূলত প্রথম প্রোগ্রামিংয়ের ধারণা। এ কারণেই তাঁকে বিশ্বের প্রথম প্রোগ্রামার হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৫৩ সালে তাঁর এই নোটগুলো পুনর্মুদ্রিত হলে তাঁর অবদানের গুরুত্ব নতুনভাবে স্বীকৃত হয়।

জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-৭৯) ছিলেন একজন স্কটিশ পদার্থবিদ এবং গণিতবিদ। তিনি ইলেকটোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের ক্লাসিক্যাল তত্ত্ব দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। তাঁর চারটি সমীকরণ। এগুলো ‘ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ’ নামে পরিচিত। এই সমীকরণগুলো তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। এটি পরবর্তী সময়ে বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি করে। ম্যাক্সওয়েলকে আইজ্যাক নিউটন এবং আলবার্ট আইনস্টাইনের পাশাপাশি অন্যতম প্রভাবশালী পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে গণ্য করা হয়।

জগদীশচন্দ্র বসু
বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭)। তিনি ১৮৯৫ সালে অতিক্ষুদ্র তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে তারবিহীন সংকেত প্রেরণে সফল হন। বসু মনে করতেন, জ্ঞান বা বিজ্ঞান কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়া উচিত নয়। তাই একে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর গবেষণা প্রকাশ করলেও তিনি পেটেন্ট নেননি। ফলে বাণিজ্যিক স্বীকৃতিও মেলেনি। ১৯৯৭ সালে আইইইই তাঁকে ‘রেডিও সায়েন্স পাইওনিয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

গুগলিয়েলমো মার্কনি
বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে একই কাজ প্রথম প্রকাশিত হওয়ায় সর্বজনীন স্বীকৃতি পান ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনি (১৮৭৪-১৯৩৭)। ১৮৯৫ সালে তিনি রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে সফলভাবে সংকেত পাঠাতে সক্ষম হন। বেতার টেলিগ্রাফির উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯০৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। বিশ শতকে ইলেকট্রনিকসের বিকাশের পর প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের আইবিএম কোম্পানি মেইনফ্রেম কম্পিউটার তৈরি করে। পর্যায়ক্রমে ১৯৭১ সালে মাইক্রো প্রসেসর আবিষ্কৃত হলে সাশ্রয়ী কম্পিউটার তৈরির পথ সুগম হয়।

রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন
বিশ শতকের ষাট-সত্তরের দশকে ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে আরপানেট আবিষ্কৃত হয়। বলা হয় তখন থেকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটারের মধ্যে আন্তসংযোগ বিকশিত হতে শুরু করে। আর এ বিকাশের ফলে তৈরি হয় ইন্টারনেট। আমেরিকার প্রোগ্রামার রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন আরপানেটের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে প্রথম ই-মেইল পাঠানোর কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনিই ই-মেইল ঠিকানায় @ চিহ্ন ব্যবহার শুরু করেন প্রথম ই-মেইল পদ্ধতি চালু করেন।

স্টিভ জবস
মাইক্রো প্রসেসরের উদ্ভাবনের পর যুক্তরাষ্ট্রে সেটি ব্যবহার করে পার্সোনাল কম্পিউটার তৈরির কাজ শুরু হয়। স্টিভ জবস (১৯৫৫-২০১১) ও তার দুই বন্ধু স্টিভ ওজনিয়াক ও রোনাল্ড ওয়েইন ১৯৭৬ সালে অ্যাপল কম্পিউটার নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। অ্যাপলের হাতেই পার্সোনাল কম্পিউটারের নানা পর্যায় বিকশিত হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বর্তমান অগ্রযাত্রা কোনো একক ব্যক্তির অবদান নয়। এটি শতাব্দীজুড়ে বহু বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। তাঁদের চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনই আজকের ডিজিটাল বিশ্বের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )