1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
রাজারহাটের মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ এখন বিদেশে রপ্তানী | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

রাজারহাটের মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ এখন বিদেশে রপ্তানী

ইমতিয়াজুল ইসলাম লাভলু, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩৪ জন দেখেছেন

রাজারহাটে ফেলে দেয়া মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ এখন বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে! এতে করে পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় বাড়তি আয়ে মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরছে। মাছের আঁশ সাধারণত উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করে ফেলে দেয়া হয়। অথচ এই মাছের আঁশ কয়েক বছর ধরে রাজারহাটের মূল্যবান পণ্য মাছের আঁশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাছের আঁশ রপ্তানী করে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এই মাছের আঁশ সংগ্রহ করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান।

রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্পু, ইলিশসহ হরেক রকম মাছের আঁশের চাহিদা বেশি। শুধু আঁশ নয় মাছের পেটের ফুলকা, কানসহ ফেলে দেয়া অনেক উচ্ছিষ্ট অংশেরও চাহিদা রয়েছে। বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করার পর সেগুলো পানিতে অথবা গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে ঝরঝরে করে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। পরে সেগুলো বছরে দুই থেকে তিনবার এই আঁশ বিক্রি করা হয় পাইকারের নিকট। প্রতি মণ আঁশ বিক্রি করা হয় দুই হতে চার হাজার টাকায়। শুধু আঁশ নয় মাছের নাড়িভুঁড়িও বিক্রি হয়। নাড়িভুঁড়ি ব্যবহার করা হয় মাছের খাদ্য হিসেবে। মাছের জাত অনুযায়ী আঁশের দাম ভিন্ন হয়।

মাছের আঁশে প্রচুর পরিমাণে ‘কোলাজেন’ থাকে। যা খাদ্য,ওষুধ,ফুড সাপ্লিমেন্ট, কসমেটিকস,ওষুধ,ক্যাপসুলের খোসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ব্যাটারি,কৃত্রিম কর্নিয়া,বায়ো পাইজোইলেকট্রিক ন্যানো জেনারেটর,রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া,ব্যাটারি তৈরি, বৈদ্যুতিক পণ্যসহ পোলট্রি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাপান,চীনসহ ইউরোপে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার সুবাদে দিন দিন এটি লাভজনক খাতে পরিণত হচ্ছে। মাছের আঁশ সংগ্রহের সাথে অনেক মানুষ জড়িযে পড়ছে।

তারা বাজার থেকে আঁশ সংগ্রহ করে বিক্রি উপযোগি করে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। ফেলে দেয়া মাছের আঁশ এখন স্থানীয় পর্যায়ে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে মাছ কাটার শ্রমিকরা বাড়তি আয় করছেন। ঢাকা,রংপুর,কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারের নিকট শুকনা আঁশ কেজি প্রতি ৬০ হতে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। রাজারহাট উপজেলার সুনীল চন্দ্র এবং দীলিপ কুমার বলেন,মাছের ব্যবসা করি দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু মাছের আঁশের ব্যবসা গত বছর থেকে শুরু করেছি।

এরআগে এই আঁশ ফেলে দেয়া হতো। আরডিআরএস বাংলাদেশের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে এখন আর মাছের আঁশ ফেলে দেই না। প্রতিদিন মাছ ছিলানোর পরে আঁশ সংগ্রহ করে সেগুলো শুকিয়ে বছরে দুই /তিনবার বিক্রি করে থাকি। রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন,মাছের আঁশ রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই খাত ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি শিল্প পরিণত হতে যাচ্ছে। এজন্য মৎস্য বিভাগ মাছের আঁশের গুণগত মান ঠিক রাখতে কাজ করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )