


ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের আমতলী (কাঁঠালবাড়ী) নৌকা ঘাটে ইজারা (ডাক) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘাট স্থানান্তরের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল পাশার বিরুদ্ধে।
সোমবার দুপুর ২টায় কাঠালবাড়ী (কাটাদ্বারা) ঘাট এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন মোঃ ঘুটু মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম এবং মোঃ ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় অনেকেই। এসময় বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত ডাক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গোপনে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তির কাছে ঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের গণবিজ্ঞপ্তি বা মাইকিং ছাড়াই গোপনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল পাশা।
এছাড়াও গত চার বছরে ইজারা সংক্রান্ত কোনো প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষ স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা এলাকায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আবার পূর্বের সুবিধাজনক স্থান থেকে ঘাট সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানান বক্তারা। মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সঠিক নিয়মে পুনরায় ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়-এ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগের পরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা মানববন্ধনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধান অনুযায়ী প্রতি বছর উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঘাট ইজারা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গত চার বছর ধরে উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে তা মানা হচ্ছে না। এতে সাধারণ মাঝিরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না এবং সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল পাশার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।