


কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের তালুক আষারু গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও ফেন্সি আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান পাঁচ বছরের ফাহিম। প্রায় এক বছর আগে রাজধানীর পিজি হাসপাতালে পরীক্ষার পর তার শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। সন্তানকে বাঁচাতে শুরু হয় পরিবারের মরিয়া লড়াই।
মোবাইল মেকানিক বাবা মিজানুর রহমান নিজের দোকানসহ সব মালপত্র বিক্রি করে দেন। এরপর এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন।তাতেও কুলাতে না পেরে বসতবাড়ি ব্যাংকে বন্ধক রেখে আরও ৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।
আত্মীয়স্বজন ও কিছু সহৃদয় মানুষের সহায়তায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে ফাহিমের চিকিৎসায়। দীর্ঘ ১০ মাস চিকিৎসার পর এখন কিছুটা সুস্থতার দিকে এগোচ্ছে ফাহিম। চিকিৎসকদের মতে,নিয়মিত আরও দেড় বছর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। কিন্তু সেই পথেই এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট।
বর্তমানে কেমোথেরাপি ও প্রয়োজনীয় ইনজেকশনের খরচ জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে পরিবারের জন্য। চিকিৎসা সম্পন্ন করতে এখন প্রয়োজন প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা-যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। ফাহিমের দাদা আব্বাছ আলী বলেন,নাতির চিকিৎসার জন্য বাড়িঘর,দোকানপাট-সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আর কিছুই নেই। নিজেরা চলতে পারছি না,চিকিৎসাও করাতে পারছি না।”
ফাহিমের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, “আমার ছেলেটা এখন অনেকটাই সুস্থতার দিকে। আরও কিছুদিন চিকিৎসা চালাতে পারলে পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।” মা ফেন্সি আক্তার চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন,অন্য বাচ্চারা খেলতে যায়,স্কুলে যায়। আমার ছেলে আমাকে জিজ্ঞেস করে-মা,আমি কবে খেলতে যাব,কবে স্কুলে যাব? তখন বুকটা ভেঙে যায়।”
দাদি মমতার বেগম বলেন,নাতিটাকে বাঁচাতে সব শেষ করে ফেলেছি। এখন আপনাদের সহায়তা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।” ছোট্ট ফাহিমও তার সরল কণ্ঠে জানায়,আমার অসুখ। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন স্কুলে যেতে পারি।” ফাহিমের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সহায়তার জন্য সবার কাছে আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। সহায়তার নম্বর (বিকাশ/নগদ): ০১৭৬৭২৮০০১১