স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রতিনিধি মো. রিয়াদুন্নবী রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীভাঙন, কৃষিজমি ধ্বংস, পরিবেশ বিপর্যয় এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিলেন। তার প্রতিবেদনগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ে।
বিশেষ করে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত “গঙ্গাচড়ার তিস্তা নদীতে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বাঁধ” শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্রটি সাংবাদিককে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা করে। এতে সাংবাদিকের পিতা মো. ইলিয়াছ আলী, মাতা মোসলেমা বেগম (৪৭) এবং কোকিলা বেগম (৪৫) গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কোকিলা বেগমকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় সাংবাদিক রিয়াদুন্নবী রিয়াদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি সে সময় গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত গঙ্গাচড়া মডেল থানায় যান।
তার অবস্থান যাচাইয়ের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে,জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ করা কলের কল লগ ও অডিও রেকর্ড, গঙ্গাচড়া মডেল থানার সিসিটিভি ফুটেজ, সহকর্মী সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং মোবাইল কল ডাটা রেকর্ড (CDR) ও লোকেশন তথ্য। ঘটনার পরপরই ৯৯৯-এ কল করার ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে,যা ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে।
ঘটনার পর সাংবাদিক রিয়াদুন্নবী আইনানুগভাবে তাজু মিয়া, রাজু মিয়া, আজিবর রহমান, রিপন মিয়া, আলেফ উদ্দিন ও তাজমিনা বেগমসহ কয়েকজনকে আসামি করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার মাত্র দুই দিনের মাথায় ২০ মার্চ উক্ত মামলার অন্যতম আসামি তাজমিনা বেগম সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে প্রেসক্লাব।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাব এ ঘটনায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা,৯৯৯ কলের তথ্য ও রেকর্ড সংগ্রহ,থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ,
মোবাইল কল ডাটা ও লোকেশন যাচাই,প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,
সাংবাদিক ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক খবরপত্র প্রতিনিধি আব্দুল আলীম প্রামানিক, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি কমল কান্ত রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ প্রতিনিধি বাবুল মিয়া, সহ-সভাপতি ও দৈনিক লাখোকণ্ঠ প্রতিনিধি আব্দুল বারী দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ডেসটিনি ও সকালের বাণী প্রতিনিধি মাহফুজার রহমান (মাহফুজ),প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দৈনিক প্রথম খবর প্রতিনিধি বেনজুম আলী বেনজিরসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
বর্তমানে সাংবাদিক রিয়াদুন্নবী রিয়াদ ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন তারা। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলার কারণে তিনি মানসিক ও পেশাগতভাবে চাপে রয়েছেন।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কমল কান্ত রায় জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে থানায় মামলা রয়েছে।দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে বসাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল আলীম প্রামানিক বলেন, সাংবাদিক রিয়াদের সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনো ব্যক্তিগত বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি ভিত্তিহীন। শুধুমাত্র অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করাই তার বিরুদ্ধে হামলা ও মামলার মূল কারণ। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।