1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডায় উত্তপ্ত সংসদ, এক্সপাঞ্জ হলো একাধিক বক্তব্য | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডায় উত্তপ্ত সংসদ, এক্সপাঞ্জ হলো একাধিক বক্তব্য

সকালের বাণী ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ১৯ জন দেখেছেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মৎস্য খাতে অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র উন্মোচনের পাশাপাশি রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডায় পার হয়েছে ১১তম দিন। সরকারের সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক অর্জনের আলোচনার সমান্তরালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মাঝে সৃষ্টি হয় তীব্র বাগবিতণ্ডা। 

সংসদে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাইভার মোট নম্বর পূর্বের ২০০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বর বহাল থাকবে।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে সর্বমোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ পূরণে সরকার ইতিমধ্যেই ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি বিশেষ ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে, ১ বছরের মধ্যে ৪ লাখ ৪৫৯টি পদে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩ লাখ ১১০টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদের তথ্য প্রেরণের জন্য ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিচারব্যবস্থা ও প্রান্তিক মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দেশের দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগণকে আইনি সহায়তা দিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরে উন্নীত করার কথা জানান। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি কম হওয়ায় অনেক সময় দক্ষ আইনজীবীরা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী হন না, যার কারণে সরকার প্যানেল আইনজীবীদের ফি ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং তা আরও যৌক্তিকভাবে বাড়াতে কাজ করছে। তৃণমূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্পের আওতায় ৩০০টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মোবাইল অ্যাপ ও আধুনিক অনলাইন পোর্টাল চালু এবং ১৬৬৯৯ টোল-ফ্রি হেল্পলাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যপদ্ধতি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা ভিন্ন হওয়ার কারণে এবং বিচারপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি সমন্বিত ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিবেশ ও আইনি হয়রানি বন্ধের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার প্রত্যাহার করেছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলার তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। যারা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে যোগ্য মামলাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন। সংসদের এই অধিবেশনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এসেছে, তেমনি কিছু অনভিপ্রেত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ বা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হকের ব্যক্তিগত জীবন ও পরকীয়া নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাজেট আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকুরের দেওয়া বক্তব্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক্সপাঞ্জ করেন। স্পিকার বলেন, যার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তার সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ নেই, তাই তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। একই সঙ্গে স্পিকার নিজের দেওয়া একটি মন্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেন এবং ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম ভুলবশত নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করায় এবং পরে নিজের ভুল স্বীকার করায় সেটিকে স্লিপ অব টাং হিসেবে বিবেচনা করে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হয়। অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বিরোধীদলীয় নেতার একটি মন্তব্য নিয়ে আপত্তি তুললে স্পিকার তা নাকচ করে বলেন, সংসদের বাইরের কথা সংসদের বাইরেই জবাব দেওয়া ভালো, কারণ দেশে বাকস্বাধীনতা রয়েছে।

অধিবেশনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা, যা এক পর্যায়ে বিরোধী দল ও সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে রূপ নেয়। নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব ঘাটতি, করমুক্ত আয়সীমা এবং ব্যাংক খাতের নিট ঘাটতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বিগত সরকারের আমলের নামকরণের রাজনীতির সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে অসত্য তথ্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন।

আব্দুল হান্নান মাসুদের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এই সরকার গঠিত হয়েছে, তাই সংসদ নেতাকে নিয়ে যে অসত্য কথা বলা হয়েছে তা এক্সপাঞ্জ করা উচিত।

এরপর বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, সংসদ নেতার সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে এবং দেশে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যাওয়া উচিত হবে না। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এই বিতর্কে অংশ নেন। স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংসদীয় নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদ দেন এবং জানান যে সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থবছরই শতভাগ বাজেট বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। দেশের বাজেটের আকার ধারাবাহিকভাবে জ্যামিতিক হারে বাড়লেও বাস্তবায়নের হার হাঁটছে উল্টোপথে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে করে বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক মূল্যায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছিল ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশে, যা ১৯৭৬-৭৭ সালের পর সর্বনিম্ন। এমনকি চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেও এই হার মাত্র ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে। অবাস্তব ও অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, জিডিপির দীর্ঘদিনের নিম্ন অবস্থান, ক্রমবর্ধমান ঋণ ও সুদের চাপ, নীতি প্রণয়নের অতিকেন্দ্রীকরণ এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দের বড় অসঙ্গতি ও গরমিল তুলে ধরে মাসুদ সাঈদী বলেন, শিক্ষা খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রণালয়ের তিন বিভাগের বিস্তারিত হিসাবে ১৪ হাজার কোটি টাকার গরমিল রয়েছে। তিনি সংসদে প্রশ্ন তোলেন, বাকি ১৪ হাজার কোটি টাকার হিসাব কোথায় এবং এই টাকা কোথায় খরচ করা হবে তা বাজেটে কেন স্পষ্ট করা হয়নি।

একই সঙ্গে বিএনপির মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অর্থমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে বিএনপির অনেক কাজই সেই জুলাই স্পিরিটের সঙ্গে মেলে না। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি দখল, অফিস দখল এবং বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। জুলাই স্পিরিটের বিরুদ্ধে গিয়ে ইতিমধ্যে ৫৬টি উপজেলায় জেলা পরিষদেও প্রশাসক হিসেবে নির্বাচনে পরাজিত কিছু ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংসদের বিরোধী দলীয় ও অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যদের বাজেট বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করে কেবল সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন।

তিনি পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা এবং জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি জাতীয় সংসদে পূরণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পিরোজপুরের রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, বাংলাদেশ যখনই ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে সংকটে পড়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তখনই রাষ্ট্রকে সফলভাবে পরিচালনা করেছে। বিরোধী দলের বন্ধুরা এই বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বললেও স্বপ্ন ছাড়া বাস্তবতা হয় না। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে বাজেট পেশ হয়েছে, তা আগামীতে সফলতার মুখ দেখাবে। ১৯৭৫ সালে হেনরি কিসিঞ্জার যখন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল, তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম বাজেট দিয়ে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছিলেন।

কওমি মাদ্রাসায় বরাদ্দ নেই বলে যারা সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য কাজ করে না, তারেক রহমান সমগ্র বাংলাদেশের জন্য কাজ করেন।

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণদের জন্য প্রযুক্তি খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ২৫৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নয় বছরের ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। অথচ সংসদে আসা কয়েকজন তরুণ সদস্য শুধু গণভোট ছাড়া আর কিছুই বলতে শিখেনি।

নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিমের নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করার কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭১ সালের ১০ বছর পর ১৯৮১ সালে জন্ম নিয়ে কেউ কীভাবে শহীদের সন্তান হন। সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধাই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই, জনগণের কাজ করলেই হয়, কিন্তু সংসদে অসত্য বলা যাবে না। আলোচনায় জামালপুরের মেয়ে হিসেবে নিলোফার মনি তার এলাকায় সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং জামালপুরের বিশ্বখ্যাত নকশিকাঁথার প্রসারে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

স্পিকার সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে বলেন, বিরোধী দলের যে সদস্যের কথা বলা হয়েছে, তিনি নিজেই তার ভুল সংশোধন করেছেন। তার পিতা এখনো জীবিত আছেন। তিনি জানিয়েছেন ভুলক্রমে তার মুখ থেকে কথাটি বেরিয়ে এসেছে এবং এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হওয়ায় এটিকে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে।

অধিবেশনে দেশের সম্পদ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে পানিসম্পদ এবং মৎস্য খাতের দুটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক চিত্র সংসদে উন্মোচিত হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে জানান, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন সম্পর্কিত চুক্তি ও সমঝোতাগুলো দেশের স্বার্থে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং অববাহিকাভুক্ত দেশসমূহ যথা- ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণে সরকার কাজ করছে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য বলে অভিহিত করেন। এর পাশাপাশি দেশব্যাপী নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় আগামী ৫ বছরে ৯ হাজার ৪৬ কিলোমিটার খাল খনন করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে ঘোষণা করেন যে, দেশে বর্তমানে মাছের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশে বার্ষিক ৩৮.০৯ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ৫১.১১ লাখ মেট্রিক টন।

নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এর মধ্যে স্বাদু পানিতে উৎপাদিত মাছের পরিমাণই ৪৫.৪৩ লাখ মেট্রিক টন। তবে স্বাদু পানির এই বিপুল মৎস্যসম্পদ এবং জলজ পরিবেশকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করতে শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ইটিপি স্থাপন এবং পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমন্বিত ও কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )