


দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা অন্তত ১০-১৫ টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেগুলো রিফিল, নবায়ন বা প্রতিস্থাপনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এসব যন্ত্র কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে রোগী, স্বজন ও সচেতন মহলে। সাম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে থাকা সার্ভিসিং স্টিকার অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। একটি যন্ত্রে সর্বশেষ সার্ভিসিংয়ের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৩ নভেম্বর ২০২২ এবং পরবর্তী মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৩।
কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আড়াই বছর পরও সেটি একই অবস্থায় ঝুলতে দেখা গেছে। অপর একটি যন্ত্রের সার্ভিসিং স্টিকারে ২০১৭ ও ২০১৯ সালের তারিখ পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ওষুধ সংরক্ষণাগার এবং বিভিন্ন কক্ষে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অবহেলা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রশিদুল নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, একটি হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কার্যকর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্র ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি উদ্বেগজনক। হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শুধু দেয়ালে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ঝুলিয়ে রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নিয়মিত পরীক্ষা, রিফিল ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্র জরুরি মুহূর্তে কাজ নাও করতে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।” দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান বলেন, “অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত বছরে অন্তত একবার রিফিল এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিদর্শন করা প্রয়োজন। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যন্ত্রটির কার্যকারিতা কমে যায় বা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।” এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা (আর.এম.ও) ডা. সুব্রত হাওলাদার জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন চিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পরিবর্তন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।