বিশ্বকাপ জয়ী খ্যাতিমান ক্রিকেটার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোর পর ২০২৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগে কারারুদ্ধ হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি।
২৬ কোটি মানুষের এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখটিকে শুধুমাত্র একবারই দেখা গেছে, একটি অনলাইন আদালতের শুনানির ফাঁস হওয়া স্থিরচিত্রে।
এখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এ অধিনায়ককে মুক্তি দেওয়ার জন্য পর্দার আড়ালে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তবে তার মুক্তির বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় এ নিয়ে এখন পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র ও ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা এ কথা জানিয়েছেন। খবর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্যা অবজারভারের।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছে, পাকিস্তানকে যদি এগিয়ে যেতে হয়, তবে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতেই হবে। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়াটা তার অবস্থান থেকে সরে আসার একটি সম্ভাব্য সুযোগ হতে পারে। ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের এই বছরের শুরুতে চোখে একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং তার পরিবার তার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশেষ করে কয়েক মাস আগে আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর থেকে তার মৃত্যুর গুজব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।
দ্য অবজারভারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম বলেছেন, আর চুপ করে থাকা যায় না।
তারা বলেন, “আমাদের বাবাকে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি যে, এই দীর্ঘ কারাবাসের কারণে আমাদের বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং তার সঙ্গে আমাদের নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে যোগাযোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”
ইমরান খানের উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারি দ্য অবজারভারকে বলেন, “ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজন। তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে এবং তার বোন, পরিবারের সদস্য বা এমনকি আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
সরকারের যদি কোনো দায়িত্ববোধ থাকে, তবে তাদের উচিৎ চিকিৎসার কারণে ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়া।
একই ধরনের একটি চুক্তির মাধ্যমে ইমরান খানের ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ—যিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোর পর দুর্নীতির দায়ে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।
নওয়াজ শরিফ পরে ২০১৯ সালে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য পাকিস্তান ছাড়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইমরান খানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং চুপ থাকার মতো কঠোর শর্ত থাকবে।
তবে পাকিস্তানে খুব কম লোকই বিশ্বাস করেন, যে ব্যক্তি ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পথে তার দলকে ‘কোণঠাসা বাঘের’ মতো লড়াই করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন, তিনি এই শর্তগুলো মেনে নেবেন।




























