


রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের কলাবাগানের প্রায় এক হাজার গাছের কলা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মাঝেও চাঞ্চল্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর খাঁনসাহেব পাড়া গ্রামের শেরপুরের ডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি পরিপূর্ণ কলাবাগানের সব গাছের কলা কেটে ফেলা হয়েছে। কয়েক মাসের পরিশ্রম ও স্বপ্ন এক রাতেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বাগানের মালিক কৃষক আলাউদ্দিন।
কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, “আমি ছয় মাস আগে অনেক আশা নিয়ে এই জমিতে কলার চারা রোপণ করেছিলাম। নিয়মিত পরিচর্যা করে গাছগুলো বড় করেছি। কিছুদিন পরই ফলন ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু কে বা কারা রাতের অন্ধকারে আমার সব গাছের কলা কেটে দিয়ে গেছে। এতে আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। যারা এ কাজ করেছে, তাদের বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের সঙ্গে শত্রুতা থাকতেই পারে, কিন্তু গাছের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা কেন? আমার পরিবারের আয়ের একটি বড় উৎস ছিল এই কলাবাগান। এখন আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
প্রতিবেশী আনছার আলী বলেন, “আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। তিনি অনেক পরিশ্রম করে কলাবাগানটি তৈরি করেছিলেন। রাতের আঁধারে এভাবে গাছের ক্ষতি করা খুবই দুঃখজনক। মানুষের সঙ্গে মানুষের বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বের কোনো বিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”