


রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নে ২০২৫/২৬ অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে ১৬টি নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই স্বচ্ছল ও বিত্তবানদের এলাকাবাসীর অভিযোগ। স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশুদ্ধ খাবার পানির সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নলকূপ স্থাপন করা।
কিন্তু বাস্তবে প্রভাবশালী ইউপি সদস্য ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের বাড়িতে নলকূপগুলো বসানো হয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়াও স্থাপিত কয়েকটি নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় তা ব্যবহার উপযোগী নয় বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি, পানি লালচে রঙের এবং দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় রান্না ও পান করার কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
বড় আলমপুর ইউনিয়ন মমতাজ আলী, ইব্রাহিম বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক অসহায় পরিবার রয়েছে তাদের কে নলকূপ বরাদ্দ দিলে উপকৃত হতো। যাদের অর্থ এবং বাড়ি রয়েছে তাদেরকে এই উন্নয়ন সহায়তার নলকূপগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ধর্মদাসপুর গ্রামে আনতাজ আলীর সাথে তিনি বলেন, আমি আগামী বছরের নতুন বাড়ি নির্মাণ করবো সেই কারনে ফাকা মাঠে নলকূপ বসিয়েছি।
বড় আলমপুর গ্রামের রতন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ২২ হাজার টাকার নলকূপ স্থাপন করেছে আমার বাড়িতে ৮৫ ফিট পাইপ দিয়ে। সেই পানিতে আয়রন যে পানি আমার বাড়ির পরিবেশ নষ্ট করছে। এটি নিয়ে আমি বড় বিপদে রয়েছি। নলকূপ বসানো দেড় মাস পার হলেও এটি তদন্তে আসছে না কেউ। ধর্মদাসপুর গ্রামের মাসুদ মিয়ার বাড়ির সাথে মুদি দোকান ঘেঁষে নলকূপ বসানো হয়েছে।
তিনি জানান, এতো টাকার কাজ দায়সারা ভাবে নলকূপটি কাজ শেষ করে গেছে। বাসপুকুরিয়া গ্রামের মিঠু মিয়া বড় বাড়ি রয়েছে তার বাড়ির উঠানে নলকূপ বসানো হয়েছে তিনি বলেন, আমার ভাবি মহিলা ইউপি সদস্য তিনি আমাকে এই নলকূপটি খুলিত বসে দিয়েছে। আয়রন মার্কা পানি ভাই এই নলকূপের পানি গবাদিপশুও খেতে চায় না।
বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সূত্রে জানা গেছে ২০২৫/২৬ অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ইউনিয়টির বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় ১৬ টি নলকূপ গোড়া পাকাসহ স্থাপন করা হয়। ইউনিয়নটির চেয়ারম্যানের মামলার কারনে উপজেলার সমাজসেবা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক কে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি বলেন, আমি সকল ইউপি সদস্য কে নিয়ে মিটিং করে নলকূপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেই।
তবে ভুক্তভোগীদের নামের তালিকা ইউপি সদস্যরা দিয়েছে। উক্ত কাজের জন্য আমি বিল দেই নাই। এখন নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদে বসছে আপনি তার সাথে অথবা সচিবের সাথে কথা বলেন। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সেলিম জানান, মামলা মোকামার কারনে আমি প্রায় দেড় বছর পরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পেলাম।
তবে নলকূপ স্থাপনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রপ্ত প্রশাসক কাজটি করে গেছে। এলাকাবাসী প্রকল্পের বরাদ্দ বণ্টন ও নলকূপ স্থাপনের বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।