1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বিএনপিতে বড় পুনর্গঠন, মন্ত্রিসভায় রদবদল? | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বিএনপিতে বড় পুনর্গঠন, মন্ত্রিসভায় রদবদল?

সকালের বাণী ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছেন
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরেই বিএনপির দলীয় কাঠামো, মন্ত্রিসভা এবং সংসদীয় রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় তার ছেড়ে দেওয়া দলীয় ও সরকারি দায়িত্বে কে আসছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়ে রিজভীকে ঘিরে আলোচনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। এই পদে তাৎক্ষণিকভাবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের ভেতরে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে সদ্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া রুহুল কবির রিজভীর নাম।

ফলে অন্তর্বর্তী সময়ে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হলে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ছন্দপতন হবে না—এমনটাই মনে করছেন দলের একাংশের নেতারা।

রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের কাজ করার জন্য নতুন করে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করেছেন। এ জন্য তিনি দলের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের ও দলের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও পরিবর্তনের আভাস

মহাসচিব পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও পরিবর্তনের আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে থাকা হাবিব উন নবী খান সোহেল ও আব্দুস সালাম আজাদের নাম এ পদে আলোচনায় রয়েছে।

একই সঙ্গে দপ্তর সম্পাদক পদেও নতুন মুখ আনার আলোচনা রয়েছে। এ পদে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, মুনির হোসেন, আবদুল লতিফ জনি এবং এবিএম মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসবে। আর এই পরিবর্তনকে ঘিরেই সরকারের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

সরকারের উচ্চপদস্থ দু’জন কর্মকর্তা জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কাজ পর্যালোচনা করে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বড় ধরনের মন্ত্রিসভা রদবদলের সম্ভাবনা কম।

দলীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই নেতাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আনা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদলের আলোচনা

মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনায় শুধু স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই নয়, পররাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের নামও রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বর্তমান প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।

এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, শামসুজ্জামান দুদুসহ আরও কয়েকজন নেতা। কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের নামও মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

শরিকদেরও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা

বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা মিত্র ও শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এ ক্ষেত্রে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও  লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম নাম আলোচনা রয়েছে।

গত ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি ও তাদের মিত্র-শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় শরিকদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সংসদ উপনেতা নিয়েও হিসাব

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে। ফলে সেখানে উপনির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার পরিবারের সদস্যদের নাম নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

একই সঙ্গে সংসদ উপনেতা কে হবেন, সেটিও পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পুনর্গঠন বা রদবদল দল ও সরকারের ক্ষেত্রে রুটিন ওয়ার্ক। প্রয়োজনের তাগিদেই পুনর্গঠন বা রদবদল করা হয়। সরকারপ্রধান প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সে ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যসম্পাদনের মূল্যায়নও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )