1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
এক লাখ মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেল তিন লাখ, সেই  অন্যায় আর হবে না : সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা  | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

এক লাখ মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেল তিন লাখ, সেই  অন্যায় আর হবে না : সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৫৭ জন দেখেছেন
অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, ২০২৪ এ এসে আমরা আমাদের প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা ছেলেমেয়েদের চিন্থিত করব। এখানে ভুল হবে না। ওই এক লাখ মুক্তিযোদ্ধা আজকে হয়ে গেল তিন লাখ, সেই অন্যায় আর হবে না। প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা চিন্থিত করব, প্রতিটি আহত-নিহতকে আমরা চিন্থিত করব। যেই কষ্ট আমরা ৫৩ বছর ধরে বহন করেছি এবং মুক্তিযুদ্ধের নামে বারবার যে ভুল করেছি, সেটার অবসান ঘটলো। সেটা আমরা আর দ্বিতীয় করতে দিবো না। এবং সেই জায়গাটা থেকে ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন যে ভাষায় তারা কথা বলল, তাদের যে সাহস সেটা সারা বিশ্বকে বিস্ময়িত করেছে। এটা নিয়ে যুগে যুগে গবেষণা হবে।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত রংপুর বিভাগের শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে  অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, আমরা যুগে যুগে সমাজ ও রাজনীতি জীবনে যা অর্জন করেছি, তা ছাত্র-জনতার সংগ্রাম ও প্রতিবাদের ফলে। ৫২ সাল, ৬৯, ৭০, একাত্তর সাল, তার পর পদ্মা দিয়ে অনেক পানি বয়ে গেছে, অবশেষে ২০২৪। একাত্তরের যুদ্ধ দেখেছি, তারপর ২০২৪ দেখেছি। আমরা যে স্বপ্নটা দেখেছিলাম সাম্য, গণতন্ত্র, ন্যায্যতার মাধ্যমে একটা সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবো। এবং ন্যায্যতার অধিকারেই আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। স্বাধীনতা পেয়েছি, মাটি পেয়েছি, পতাকা পেয়েছি কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গেছে।
তিনি আরও বলেন, একাত্তরে স্বাধীনতার পরে আমরা গণতন্ত্র পাইনি। সাম্য ও ন্যায্যের জায়গায় আমরা দাঁড়াতে পারিনি। এক লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার পুনর্বাসন হয়নি। তাদের ভিতরে ৯০ শতাংশ ছিলেন গ্রামের ছেলে-মেয়েরা। তাদেরকে খালি হাতে, খালি পায়ে গ্রামে ফিরে যেতে হয়েছিল। সেদিন আমরা দেশ গঠনের কাজে তাদেরকে কাজে লাগাতে পারিনি। এটা ছিল অন্যায়। আজকে ২০২৪ এর যে মুক্তিযোদ্ধারা আছেন তারা মুক্তিযুদ্ধের ধারা ও মূল্যবোধের বাহক। বিস্ময়করের সাথে দেখতে পাই ২০২৪ এর পুনর্জন্ম নিলো আরেকটি প্রজন্ম, যারা সেই আদর্শে যুদ্ধে নামলো। তাদের পুনর্বাসন, দেশ গড়া ও কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার আমরা বিফল হবো না।
গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, একাত্তরে আমরা যেটা করতে পারিনি, আজকে আমরা সেটা করিয়ে দেই এটা সম্ভব। কারণ এটাই এখন একমাত্র পথ। যারা ভাবছেন আমরা আবু সাঈদের গল্প বলছি বলে অন্যদের ভুলে যাচ্ছি , এটা ভুল ভাবছেন। আমরা তা করছি না। আবু সাঈদ একটা সিম্বল হতে পারে কিন্তু সে সকলকে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা আপনাদের সকলের কাছে পৌঁছতে চাই, কাজটা সহজ নয়। আমাদের আন্দোলনকারী ছেলেরা জুলাইয়ের বিপ্লবীরা আমাদের পাশে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কথা ও কাজের মধ্যে কিছু ভুল ত্রুটি হবে। আমোদের ওপর রাগ করবেন, সমালোচনা করবেন। এমনকি আমাদেরকে তিরস্কারও করবেন। কিন্তু কেউ মুখ ফিরিয়ে নিবেন না। কারণ আমরা আমাদের অন্তর থেকে আপনাদের পাশে আছি। ভুল হবেই , ভুল শুধরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যারা এই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত হয়েছে, তারা আমাদেরকে সত্যিই কাছে পাবে।
একই অনুষ্ঠানে মৎস ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মিজ্ ফরিদা আখতার বলেন, একাত্তর সালে অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে এখন আমাদেরকে ২০২৪ সালে এসে বলতে হচ্ছে দ্বিতীয় স্বাধীনতা আরেকবার স্বাধীন। এই স্বাধীনতা তো আর বন্ধ করা যাবে না। এই স্বাধীনতা আমাদেরকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শহীদ পরিবারের কষ্ট আমরা কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। বাবার কাধে সন্তানের লাশ, ভাইয়ের কাঁধে ভাইয়ের লাশ। কিন্তু মায়ের কান্না লাশ বহন করে না  মায়ের বুকের ভিতরে বহন করে। আমরা শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে থাকবো। যদি আমাদের কোনো গাফলতি হয় তাহলে আপনারা আমাদের প্রশ্ন করবেন। এটা অপনাদের অধিকার।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়’র মা সামসিয়ারা জামান কলি  প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর শহীদদের স্মরণে এক মিনিটের নিরবতা পালন করা হয়। পরে আলোচনা পর্ব  শেষ জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টে রংপুর বিভাগের সব শহীদ ৬৬ পরিবারের মধ্যে ৪৪ জনকে আর্থিক সহযোগিতার চেক হস্তান্তর করা হয়। বাকিদের পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )