


নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফুলের ঘাট এলাকায় দেখা মিলছে পান চাষে নজরকারা অভিনব দৃশ্য। পান চাষের জন্যে উৎকৃষ্ট মানের উর্বর জমি হওয়ায় অতীতের গ্লানিকে মুছে ফেলে নতুন উদ্দ্যমে ঐ এলাকায় একাধিক কৃষক পান চাষে আগ্রহী হয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী লাভজনক ফসল পানের চাষ শুরু করে দিয়েছেন।
তুলনামূলক ভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেকটাই কম। চাষীদের নিজস্ব পরিশ্রমে বাঁশের গড়া কাঠি আর খড়ের ছাওনী দিয়ে ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশের মধ্যে দিয়ে বরজে বেড়ে উঠছে পান গাছ। অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পান চাষীর সংখ্যা।
প্রাথমিক পর্যায়ে পান চাষে বিঘা প্রতি চাষিদের খরচ গুনতে হয় প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। আর এই এক খরচে ২৫ থেকে ৩০ বছর আবাদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এই ফসল যা প্রতি বছরে উৎপাদনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে ৬থেকে ৮লাখ টাকার পান। সুস্বাদু মিষ্টি জাতের পান যা নিজের এলাকার চাহিদা পূরনের পাশাপাশি যাচ্ছে অন্যান্য জেলা উপজেলায় ।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার ফুলের ঘাট এলাকার কৃষক মাজেদুল ইসলাম মজনু মিয়া বলেন পার্শ্ববর্তী রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকায় পানের চায প্রচুর হয় সেখানে গিয়ে পানের আবাদ দেখেছি এবং তাদের জমির তুলনায় আমার জমি আরও উৎকৃষ্ট মানের হওয়ায় আমি সেখানকার পান চাষি কৃষকদের সাথে কথা বলে সেইদিনেই মনে মনে পান চাষে আগ্রহতার জন্ম দেই। এরপর সেখান থেকে এসে পানের চারা সংগ্রহ করে কৃষি অফিসারের পরামর্শ জমিতে পানের চারা রোপন করি।
প্রাথমিক পর্যায়ে চারা রোপন ও বরজ করতে খরচ করতে হয়েছে বিঘা প্রতি প্রায় নব্বই হাজার থেকে এক লাখ টাকা। পরে চারার সাথে বাঁশের খুঁটি ও কাঁঠি দিতে খরচ হয়েছে ৫০হাজার টাকা। এছাড়াও পান গাছের পরিচর্যা আর সার প্রয়োগে সবমিলে প্রায় ২০থেকে ২৫হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চারা রোপণের ছয়মাস পর থেকেই পান উৎত্তোলন শুরু করতে পেরেছি।
একই গ্রামের কৃষক সাবুল হোসেন বলেন, এবছরেই পানের আবাদ শুরু করেছি। শুরুর দিকে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে এখন আর সেরকম ব্যায হচ্ছে না। একবার চারা রোপন করলে আর রোপন করতে হয় না। তবে প্রতিবছর বরজ সংস্কার করতে হয়। এতে
প্রায় লাখ খানেক টাকা খরচ হয়। গাছের পরিচর্যাও করতে হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগও দেখা দেয়। কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সহায়তায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়।
একই গ্রামের পান চাষী সাজু মিয়া বলেন, আমরা বাজারে তিন ধরনের সাইজে পান বিক্রি করি। ৮০টি পান এক’শ ধরা হয়। এই এক’শ পানের বড় সাইজটি বাজারে বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, মাঝারি সাইজের পান বিক্রি হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকা আর ছোট সাইজের পান বিক্রি হয় ২০থেকে ২৫টাকা। এসব পান বিক্রি করতে কোন হাট-বাজারেও যেতে হয় না। বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসেই পান নিয়ে যায়। পান চাষ অন্যান্য ফসলের চেয়েও অধিক লাভজনক। একারণে আশেপাশের কৃষকরাও পান আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাগুড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরনের মাধ্যমে মরণব্যাধি তামাকের পরিবর্তে পান চাষে আগ্রহী করা হচ্ছে। অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় ব্যাপক সাড়া মিলছে চাষীদের মাঝে । কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে এই উপজেলার কৃষকদের পান চাষের আগ্রহতা বাড়ছে। উপজেলায় প্রায় ১১একর জমিতে মিঠা জাতের সুস্বাদু পানের চাষ হচ্ছে। পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে যত্ন ও পরিচর্যা করে চারা লাগানোর ছয় মাস পর থেকে পান উত্তোলন করছে চাষীরা। এসব পান বড়, মাঝারি, ছোট আকারে বিভক্ত করে বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে। তবে এই পানের চারা একবার রোপন করে ২৫থেকে ৩০বছর ফসল পাওয়া যায়। পাশাপাশি এই গাছ থেকেই চারা তৈরী করে পরবর্তীতে অন্য জমিতে চারা হিসেবে রোপণ করা যায়।