বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম ফেরদৌস স্বাক্ষরিত পত্রে এই আদেশ জারি করেন।
আদেশেব লা হয়- যেহেতু ভুরুঙ্গামারী উপজেলাধীন সোনাহাট স্থল বন্দর এলাকায় ২৮/১১/২০২৪ তারিখে একই স্থানে এবং একই সময়ে বিএনপির ২টি গ্রুপের মধ্যে থেকে সভা-সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে এবং উক্ত সমাবেশ ঘিরে সমগ্র ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এর ফলে আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।তাই ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থল বন্দর দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ হতে পাথর ও কয়লা আমদানী করা হয় এবং সরকারি রাজস্ব আয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সরকারি স্বার্থ ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
সেহেতু সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে আমি মোঃ গোলাম ফেরদৌস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম আমার উপর অর্পিত ক্ষমতাবলে সমগ্র ভূরুঙ্গামারী এলাকায় বৃহস্পতিবার ২৮/১১/২০২৪ তারিখ সকাল ০৮:০০ ঘটিকা হতে রাত ১২:০০ টা পর্যন্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারা জারী করলাম। এই সময়ে সমগ্র ভূরুঙ্গামারী এলাকায় সকল প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, লাঠি বা দেশিয় কোন অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন, যে কোন ধরণের মাইকিং বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার, ৫ (পাঁচ) বা অধিসংখ্যক ব্যক্তির একত্রে চলাফেরা, সভা সমাবেশ, মিছিল ইত্যাদি নিষিদ্ধ থাকবে।এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থলবন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম ফরিদুল হক শাহিন শিকদারের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ গতকাল বুধবার বিকেলে সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি রফতানি কারক সমিতির এক জরুরী সভায় ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা বিপুল সংখ্যক নেতা- কর্মী নিয়ে বুধবার রাতে সোনাহাট স্থলবন্দরে এসে আজ (২৮ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এই ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। সংঘাত এড়াতে ও শান্তি শৃংখলা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম ফেরদৌস বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা থেকেই এ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। ওই সময় উল্লেখিত স্থানের মধ্যে কোথাও কোনো ধরণের সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।