


নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। এ কার্যালয়ের এসিল্যান্ড ছাড়াও ১৫টি পদের মধ্যে আটটি পদে জনবল নেই দীর্ঘদিন যাবৎ। এসিল্যান্ড পদসহ অন্যান্য পদগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য থাকায় নামজারি, মিসকেসসহ ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়ছেন প্রতিনিয়ত।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যালয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার সহ (ভূমি) মোট পদ রয়েছে ১৬টি। এর মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটিসহ নয়টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। গত বছরের (২৪ সাল) ২৯ ডিসেম্বর থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম গেল বছরের ২৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় বদলী হয়ে যান। সেই থেকে সহকারী কমিশনার (ভুমি) পদটি শুন্য রয়েছে। বর্তমানে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী এসিল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি (ইউএনও) নিজের পদের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা শতাধিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে ইউএনও’র এক সঙ্গে এতোগুলো দায়িত্বে থাকার কারণে ভূমি অফিসের দৈনন্দিন কাজে সময় দিতে পারছেন না। এতে করে উপজেলা মানুষ নামজারি, মিসকেসসহ ভূমি সংক্রান্ত নানা কাজের জন্য দিনের পর দিন উপজেলা ভূমি অফিসে ধর্ণা দিচ্ছেন।
উপজেলা ভূমি অফিসের বর্তমানে শুন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে কানুনগো একজন, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, সার্টিফিকেট পেশকার, সার্টিফিকেট সহকারী, ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী দুইটি পদ, জারি কারক, চেইন ম্যান। প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদটি দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য থাকায় বর্তমানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. ইউনুছ আলী নিজের পদের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
সৈয়দপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা ভূমি অফিসে গত ছয় মাসের বেশি সময় যাবৎ এসিল্যান্ডসহ নয়টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় মানুষ প্রতিনিয়ত ভূমি সংক্রান্ত কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি সংক্রান্ত কাজে এসেছিলেন সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়াপাড়ার এবং কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই এলাকার দ্ইু ব্যক্তি। প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক এর অফিস কক্ষে বসে কথা হয় তাঁদের দুইজনের সঙ্গে এ প্রতিনিধির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা দুইজনেই জানান, মিস কেসের আবেদন করে গত কয়েক মাস ধরে ভূমি অফিসে দিনের দিনের দিন ধর্ণা দিচ্ছেন। আজও এসেছেন তারা। এ সময় তাদের বলা হল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দায়িত্ব রয়েছে ইউএনও মহোদয়। তিনি একদিনের প্রশিক্ষণে ঢাকা গেছেন। ফলে আজও তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, সৈয়দপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানে এসিল্যান্ড না থাকায় আমার নিজ দপ্তরের কাজের পাশাপাশি আমাকেই ভূমি অফিসের কাজকর্ম করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এসিল্যান্ড পদে লোক দেয়া হবে না সঠিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।