1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ক্রেতারা, খুচরা বাজারে কমেনি পিঁয়াজের দাম | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন

দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ক্রেতারা, খুচরা বাজারে কমেনি পিঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ২০৭ জন দেখেছেন
এবার বাজার গরম পেঁয়াজের

পেঁয়াজের দাম নিয়ে ভোক্তাদের দুশ্চিন্তা কমছে না। পাইকারি বাজারে সামান্য কমলেও খুচরায় সেই প্রভাব পড়েনি। ঢাকায় এখনো প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মান ও আকারভেদে সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকায়। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারিতে দাম কমলেও মজুত কম থাকায় সরবরাহ চাপ সামলাতে খুচরায় দাম ধরে রাখতে হচ্ছে।

পাইকাররা বলছেন, দেশে প্রতি বছর মার্চ–এপ্রিল নাগাদ মৌসুমি পেঁয়াজ বাজারে আসে। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে কৃষকের মজুত ফুরিয়ে যেতে থাকে। ফলে বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এর প্রভাবে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ে।

তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কৃষক ও জেলা পর্যায়ের আড়ত থেকে যথেষ্ট সরবরাহ আসছে না। ফলে বাজারে প্রতিদিনের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ আড়তদার আবুল কালাম বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে আমরা যথেষ্ট পেঁয়াজ পাচ্ছি না। আগে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে পেঁয়াজ নামতো, এখন অনেক দিন একটা ট্রাকও আসে না। ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়ার পর স্থানীয় বাজারের ওপর চাপ বেড়েছে, অথচ কৃষকের ঘরে যে পরিমাণ মজুত আছে তা বাজারের চাহিদা মেটানোর মতো নয়। এই ঘাটতির কারণে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ছে, স্বাভাবিকভাবেই খুচরাতেও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী হাশেম আলী বলেন, আমরা চাই স্থিতিশীল বাজার। কিন্তু বাজারে পণ্যই যদি পর্যাপ্ত না থাকে, তাহলে দাম কীভাবে স্থিতিশীল থাকবে? আগে যেখানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১২০০–১৪০০ টাকায় কিনতে পারতাম, এখন সেটি ২২০০–২৫০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অনেক খুচরা বিক্রেতা আমাদের কাছ থেকে পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এর দায় পাইকার বা খুচরা ব্যবসায়ীদের নয়, মূল সমস্যা সরবরাহে। সরকার দ্রুত আমদানি নিশ্চিত না করলে এই অস্থিরতা আরও বাড়বে।

মনিরুল ইসলাম নামের আরেক পাইকারি বিক্রেতা বলেন, এখন বাজারে চাহিদা আছে, কিন্তু জোগান নেই। চাষির ঘরে পেঁয়াজ শেষ হয়ে এসেছে, আর সীমান্ত দিয়ে যেটুকু আসছে, তা পর্যাপ্ত নয়। ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা প্রতিদিন ক্রেতাদের চাপের মুখে পড়ছি। অনেকে আমাদের দোষ দিচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে জোগান না থাকলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাজারে প্রতিযোগিতা তখনই হবে যখন প্রচুর পেঁয়াজ ঢুকবে।

অন্যদিকে ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, হঠাৎ করে কেজিপ্রতি ২০–২৫ টাকা দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। তাদের অভিযোগ, সরবরাহ ঘাটতি দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থির করছেন।

পেঁয়াজের পাশাপাশি কাঁচামরিচও ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখন প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের মতে, মৌসুমি সরবরাহ কম থাকায় দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

রাজধানীর আজমপুর কাঁচাবাজারে গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, এক মাস আগেও পেঁয়াজ কিনতাম ৬৫ টাকায়, এখন সেই একই পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকায় দিচ্ছে। কাঁচামরিচ তো একেবারেই নাগালের বাইরে চলে গেছে। রান্নাঘরে প্রয়োজনীয় এই জিনিসগুলো ছাড়া উপায় নেই, অথচ দাম দিন দিন আকাশচুম্বী হয়ে যাচ্ছে।

মাহমুদুল হাসান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ করেই পেঁয়াজ ও মরিচের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাজারে গেলে মনে হয় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। সরকার যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে না নামে, সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।

অবশ্য, সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে বাড়তি দামের চিত্র। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বাজারদরের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত এক মাসে খুচরায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। বর্তমানে ঢাকায় সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। যার দাম এক মাস আগেও ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। আর গত বছর একই সময়ে পেঁয়াজের দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )