এখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।এই পযেন্টে এক ঘন্টা আগে রাত ৯ টায় পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলো।পানি বাড়ার সাথে সাথে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।উজানের পানির চাপে তিস্তা নদীর পানি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দো-মোহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা ছাড়িয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসায় উভয় দেশের তিস্তায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তা নদীর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চরাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়াসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, গত ২৩ জুন বিকেলে ৩টায় তিস্তা নদীতে পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার(৫২.১৬) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৮৬ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। রাতে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়ে রবিবার(২৮ জুন) ভোর ৬টায় ৫১.৯৫, সকাল ৯টায় ৫১.৯৭ ও দুপুর ১২টায় ৫১.৯৮ সন্ধ্যায় ৫২.২২ রাত নয়টায় ৫২.২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সর্তকীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম রাতে জানান,পানির প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে রাতে পানি আরও কমবে।
খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহল পাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন,নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে নদীর পাশের ক্ষেত গুলোতে পানি ঢুকে আইলসহ তলিয়ে গেছে।তবে ধারণা করা হচ্ছে সকাল হতে হতে পানি কমে যাবে।তবে আমাদের চোখে ঘুম আসছেনা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী গণমাধ্যকর্মীদের জানান, আমরা সর্তকতার মধ্যে রয়েছি ও তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ(জলকপাট) গেট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তা নদীর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসন।নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও সমস্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন প্রশাসন।এদিকে বাপাউবো বন্যা পূর্ববাভাস ও সতকীকরণ কেন্দ্রে সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৪৮ ঘন্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীসমূহের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।