


সারা বাংলাদেশের তুলনায় নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা তথা বাহাগিলি ও নিতাই ইউনিয়ন ক্ষুধা দারিদ্র্য ও মঙা পিঁড়িত এলাকা হিসেবে এক সময় পরিচিত ছিল। বাহাগিলি ও নিতাই ইউনিয়নজুড়ে উঁচু ও ভাঙা জমি গুলো বালু যুক্ত হওয়ায় একসময় কাশিয়াবাড়ী হিসেবে পতিত ছিল বিধায় অধিকাংশ জমি কৃষিকাজের জন্য অনুপোযোগী ছিল কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন সেই জমিগুলো সব ধরনের ফসল চাষাবাদের জন্য উপযোগী হওয়ায় বিশেষ করে আগাম আমন ধানের চাষের জন্য উৎকৃষ্ট মানের উর্বর জমিতে আশ্বিনা মঙ্গাজয়ী আগাম আমন ধানের চাষ শুরু হয়েছে ।
এখন ফসল ঘরে তুলতে কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ উপজেলার কৃষকেরা। তবে গত বছরের তুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর ভালো ফলন হয়েছে । ভালো দাম পেলে কৃষকেরা অধিক লাভবান হবেন এমনটাই আশাবাদী তারা। দুই ইউনিয়নের পাশাপাশি পুরো উপজেলায় মাঠে মাঠে এখন সোনালি আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। যেন উৎসবমুখর পরিবেশে কৃষকরা মাঠে কাজ করছেন তবে ঝামেলা ছাড়াই ক্ষেতের মধ্যেই ধান মাড়াই, ধান শুকনো, খড় শুকনো ও ধান বাজারজাতসহ সকল কাজ সম্পাদন করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর এ উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৭০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ২ হাজার ৯৬৫ হেক্টর, রূপসি ১২ হাজার হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৫ হেক্টর।
গত বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৯৩৫ হেক্টর। যা গত বছরের তুলনায় ৩৫ হেক্টর বেশি। এবছর এখন পর্যন্ত ধান কর্তন করা হয়েছে ৭০ হেক্টর । উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের পাগলাটারি গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, এবছর ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি ভালো দাম পেলে লাভবান হবো। নিতাই ইউপি’র চাঁনশা পাড়ার কৃষক লিটন আমিন জানান, এখন পর্যন্ত দুই বিঘার ধান কর্তন করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে চাষাবাদে খরচ হয়েছে ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ধান হচ্ছে ২০ থেকে ২২ মণ। তবে খড়ের দাম ভালো থাকায় খরচ বাদ দিলে এ বছর কিছুটা লাভের আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান আলম বলেন, এবছর আশ্বিনা মঙ্গাজয়ী আগাম আমন ধানের চাষের উপযোগী জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৭০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত ৭০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এই মাসের মধ্যেই প্রায় সব ধান কাটা হয়ে যাবে। দামও ভালো পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।