অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিয়ম মেনেই এসএসসি পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করেছিল সে। পুরো বছর জুড়ে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতিও নেয় মনোযোগের সঙ্গে। পরিবারের আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু জান্নাতির স্বপ্ন ছিল তার বড় ভাইয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। কিন্তু সেই স্বপ্নে হঠাৎই নেমে আসে অন্ধকার।
গত সোমবার প্রবেশপত্র নিতে বিদ্যালয়ে গেলে জানা যায়,সবার প্রবেশপত্র এলেও জান্নাতিরটি আসেনি। এ খবর শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। একটি বছর হারানোর শঙ্কা এবং স্বপ্নভঙ্গের কষ্টে তার অবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করলেও জান্নাতি অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে প্রস্তুতি নিয়েছিল।
ফলে হঠাৎ এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তার মানসিক আঘাত আরও গভীর হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে,একটি শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার সুযোগ হারানো নয়-এটি একটি পুরো বছরের ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা। এদিকে,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে আব্দুল সালাম বলেন,এডমিট দেওয়ার পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর অপশনাল বিষয়ে ভুল আসে সংশোধনের জন্য বোর্ডে এসেছি। জান্নাতির বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে,আমি তার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি।ফরম পূরণের টাকার বিষয়েও তিনি ভুল স্বীকার করেন।
তবে তিনি জানান,নীতিমালা অনুযায়ী আংশিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে মানউন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ থাকে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন একজন শিক্ষার্থীর জীবনের এত বড় ক্ষতির দায়ী কে ? শুধুই প্রশাসনিক ব্যবস্থা কি যথেষ্ট,নাকি প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি? জান্নাতির হারিয়ে যাওয়া একটি বছর এবং ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন-এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে।