


কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী,কৃষক,শ্রমজীবী ও প্রযুক্তিনির্ভর পেশাজীবীরা। এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমের মধ্যেই পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। রাতের পড়াশোনাও ব্যহত হচ্ছে বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায়।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে,জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯১ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ৮০ মেগাওয়াট। ফলে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলে তা বেড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রাম কার্যালয় জানায়,তাদের আওতায় প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে চাহিদা ১২ মেগাওয়াট হলেও সর্বোচ্চ সরবরাহ মিলছে ৯ মেগাওয়াট।
রাজারহাট সদর ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের পরীক্ষার্থী আল ইমরান বলেন,ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমেও কষ্ট হচ্ছে।” শুধু শিক্ষার্থীই নয়,কৃষকরাও পড়েছেন চরম সংকটে। বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়ছেন তারা।
রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সেলিমনগর গ্রামের সেচচালক শামসুল আলম বলেন,মোটর চালু করি,কিন্তু পানি জমিতে পৌঁছানোর আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়।” একই উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের কৃষক খোরশেদ আলম বলেন,এখন জমিতে পানির খুব প্রয়োজন। যেখানে এক ঘণ্টা সেচ দিলেই হওয়ার কথা,সেখানে তিন ঘণ্টাতেও কাজ হচ্ছে না।”
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের আয়ের ওপরও।
রাজারহাট বাজারের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সাকিল বলেন,সকালে কাজ শুরু করতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। দুই ঘণ্টা পর আসে। এতে সময়মতো কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোও ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে চালকদের আয় কমে গেছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্স কাজেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
রাজারহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান বলেন,জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।” তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি।