


দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে চালু করা হয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ও কূর্শা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এতে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার টেপামধুপুর ও কূর্শা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র দুটি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিতে দূর-দূরান্তে যেতে হতো। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার ছিলেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিয়ডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কেন্দ্র দুটিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালুর ফলে এখন স্থানীয় বাসিন্দারা টিকাদান, মাতৃসেবা, শিশুস্বাস্থ্যসেবা, সাধারণ রোগের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। এতে এলাকার হাজারো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজ হয়েছে। দীর্ঘদিন পর কেন্দ্র দুটি চালু হওয়ায় রোগীদের মাঝেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “আগে সামান্য চিকিৎসার জন্যও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হতো। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হতো। এখন আমাদের এলাকার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু হওয়ায় সহজেই চিকিৎসাসেবা নিতে পারছি।” অন্যদিকে কূর্শা ইউনিয়নের আব্দুল করিম বলেন, “দীর্ঘদিন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের দূরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হতো। এখন কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় আমরা উপকৃত হচ্ছি। নিয়মিত চিকিৎসক ও ওষুধ সরবরাহ থাকলে এলাকার মানুষ আরও ভালো সেবা পাবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা কেন্দ্র দুটিতে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আহসান হাবিব জানান, “আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর টেপামধুপুর ও কূর্শা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র দুটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে কেন্দ্র দুটি চালু করা হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র দুটির কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি অব্যাহত থাকলে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র দুটি ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে।