
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালকরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার কাজ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা যোগাযোগ বিপর্যয় ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রংপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতু-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কটি বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও তুষভান্ডার অতিক্রম করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করেছে। উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও জমে থাকা পানির কারণে উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উত্তর প্রান্তে সড়কের অন্তত ১৫ টি স্থানে ধস ও বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে সড়ক দেবে গেছে। এতে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্যও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে অধিকাংশ যানবাহন গতি কমিয়ে চলাচল করছে। কিছু স্থানে চালকরা বিপরীত পাশ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে পথ পার হচ্ছেন। রাতের অন্ধকারে গর্তগুলো স্পষ্ট বোঝা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর মিয়া বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই রাস্তার কয়েক জায়গা দেবে যেতে শুরু করে। এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এত মানুষ চলাচল করে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
পথচারী মাহমুদ মিয়া বলেন, সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কয়েক জায়গায় ধসে গেছে। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহনের চাপ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত টেকসই সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, এটি শুধু একটি স্থানীয় সড়ক নয়, রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গেছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে ভবিষ্যতে বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ধসের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি । ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে । মেরামত কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়-সড়কের গঠনগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
Related