


বাবার চোখে ঘুম নেই, মায়ের চোখে অশ্রু থামে না। স্ত্রীর চোখে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এভাবেই প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত কেটে যাচ্ছে এক অজানা শঙ্কায়—পরবর্তী ডায়ালাইসিসের টাকা জোগাড় হবে তো? দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ২ নং পালশা ইউনিয়নের চৌড়িয়া গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী সাফিয়ার রহমান সাদ্দাম দুই কিডনি বিকল হয়ে এভাবেই জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবার বিক্রি করেছে জমিজমা, শেষ করেছে সঞ্চয়, নিয়েছে ধার-দেনা। তবুও প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে চিকিৎসার খরচ। নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া তার জীবন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে পরিবার জানিয়েছে। অসহায় স্বজনদের এখন একটাই আকুতি—মানবিক মানুষের একটু সহায়তা, যাতে শাফিয়ারের চিকিৎসা বন্ধ না হয় এবং তিনি বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সাফিয়ার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসে ১২টি ডায়ালাইসিস করা হয়। একই বছর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে প্রতিমাসে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি প্রায় তিন বছর সুস্থ থাকেন। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আবার অসুস্থবোধ করলে বগুড়া টিএমএসএস হাসপাতালের নেফ্রোলজিস্ট এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. মুহাম্মদ আবুল হাসনাত এর অধীনে চিকিৎসা শুরু করেন। এরপর থেকে সপ্তাহে দুইবার নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রতিটি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১২ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি সঞ্চয় শেষ করে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়াই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজনরা।
ষাটোর্ধ্ব সাফিয়ারের বাবা সাইদুর রহমান বলেন, “তিন ছেলের মধ্যে বড় সাফিয়ারকে বাঁচানোর জন্য জমিজমা বিক্রি করেছি, ধার-দেনা করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি।এতদিন যেভাবে পেরেছি চিকিৎসা চালিয়েছি। কিন্তু এখন আর ডায়ালাইসিসের খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, সবাই আমার ছেলের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সহযোগিতা পেলে হয়তো সে নতুন জীবন ফিরে পাবে।”
স্থানীয় মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, “দুই কিডনি বিকল হওয়ার পর থেকে সাফিয়ার রহমান সাদ্দামের পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস বন্ধ হয়ে গেলে তার জীবন হুমকির মুখে পড়বে। তাই সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক-সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তার চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের মোবাইল নম্বর ০১৭২২-৭৫৯৮৩১-এ যোগাযোগ করে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
চিকিৎসকরা জানান, দুই কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেলে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি কিডনি প্রতিস্থাপনই দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর চিকিৎসার অন্যতম উপায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো ডায়ালাইসিস ও ওষুধ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলা হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। তাই চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের সর্বাত্মক সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।