
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত দূর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও জনসেবার সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি স্পিডবোট এবং বেতনভুক্ত চালক নিয়োগের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন চরাঞ্চলবাসী ।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আল আমিনের নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া সরদারপাড়াসহ তিস্তা নদীর মাঝখানে অবস্থিত চরাঞ্চলে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারের বসবাস। চারদিকে নদী থাকায় উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌযান। তবে জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য সরকারি কোনো স্পিডবোট বা দ্রুতগতির নৌযানের ব্যবস্থা না থাকায় রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া প্রায়ই সম্ভব হয় না।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, গত ২৬ জুন দ্রুত নৌযানের অভাবে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে তার গর্ভজাত সন্তানের মৃত্যু হয়। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দু’টি স্পিডবোট সরবরাহ এবং সেগুলো পরিচালনার জন্য বেতনভুক্ত দক্ষ চালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর প্রতিনিধি মো. আল আমিন বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সময়মতো রোগী হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পিডবোট চালু হলে দূর্গম চাঞ্চলের মানুষের জরুরী স্বাস্থ্যসেবা অনেশাংশে নিশ্চিত হবে । মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “এলাকাবাসীর স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
Related