আজ জরুরি বৈঠকের পর উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফার টুর্নামেন্টে ব্যক্তিমালিকানার পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, সর্বশেষ বিশ্বকাপের আট কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের দল। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দল ছাড়া বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মূল্য ও আকর্ষণ বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছে উয়েফা।
এর আগে ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার, সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।
বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জাতীয় সংস্থাগুলোর সামনে এখন এক ধরনের আল্টিমেটাম রাখা হয়েছে—হয় বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভয় দেখিয়ে সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা।’
উয়েফার ভাষ্য, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বিক্রির অধিকার কারও নেই। তাদের দাবি, ‘যেদিন থেকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানায় অংশীদার হবে, সেদিন থেকেই ফুটবলের সিদ্ধান্ত খেলাটির স্বার্থে নয়, শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার স্বার্থে নেওয়া হবে।’
ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই ইউরোপের পাশাপাশি অন্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আদায়ও এখন উয়েফার বড় চ্যালেঞ্জ।






















