1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
গঙ্গাচড়ায় থানায় মামলা না নেওয়া, সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আসামীদের গ্রেফতারের  দাবিতে সংবাদ সম্মেল | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন

গঙ্গাচড়ায় থানায় মামলা না নেওয়া, সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আসামীদের গ্রেফতারের  দাবিতে সংবাদ সম্মেল

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছেন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টন নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার ছিনতাই, শ্লীলতাহানি ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার।
 তাদের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে আদালতে মামলা দায়ের করলে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরিফুল ইসলামের মেয়ে শারমিন আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী মো. শরিফুল ইসলাম (৫২) ও পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম তার মেয়ের মাধ্যমে জানান,গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের পূর্ব মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার আপন ভাই ও ভাতিজাদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় তিনি তার ভাই মো. হায়দার আলী (৫৫), ভাতিজা মো. মেরাজ আলী (২১), মো. আব্দুস সোবহান (৪০), মো. হামিদুল ইসলাম (৬০) ও মো. হযরত বেলাল (২১)কে অভিযুক্ত করেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ২১ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির উত্তর পাশে পৈতৃক জমিতে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক মাপজোক শুরু করেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
পরে তাকে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। তিনি সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে ১ নম্বর আসামি হায়দার আলীর নির্দেশে অন্য আসামিরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্ত্রী নাজমিন বেগম ও মেয়ে শারমিন আক্তার এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে ২ নম্বর আসামি মেরাজ আলী শারমিন আক্তারের কানে থাকা আনুমানিক ৮৬ হাজার টাকা মূল্যের প্রায় সাড়ে ছয় আনা ওজনের স্বর্ণের ঝুমকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পরে তারা গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। সেখানে আসামিপক্ষের বাধার মুখে তারা ফিরে আসেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, একই দিন বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে গঙ্গাচড়া বাজারের জিগাতলা (জিরো পয়েন্ট) এলাকায় ওষুধ কিনতে গেলে নাজমিন বেগমের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হায়দার আলী হাতে থাকা শক্ত কাঠের বাতা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে কপালের বাম পাশে গুরুতর জখম হয় এবং সেখানে চারটি সেলাই দিতে হয়। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে তাকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন নাজমিন বেগমকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।সেই সময় অন্য আসামিরা তাদের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর চালায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন, তার বোন ও অন্যান্য সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় সাক্ষীদের সামনেই আসামিরা তাদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় এবং ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানায় এজাহার দিতে গেলে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা গ্রহণ না করে তা ফেলে দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি থানায় গিয়ে এজাহার দিলে ওসি তা ফেলে দিয়ে বলল, ‘তোমার মামলা নিলে আমি হায়দারের মামলাও নিবো।’ আমার যখন মামলা নিল না, তখন আমি নিরুপায় হয়ে থানা থেকে চলে আসি। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে আদালতের আশ্রয় নিয়ে মামলা করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছে, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষী ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হুমকি-ভীতি প্রদর্শন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
মামলা না নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন,ওই ঘটনায় উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিমাংসা করার কথা ছিল। পরবর্তীতে শরিফুল ইসলাম আর যোগাযোগ করেন নাই। তিনি মামলা দিতে চাইলে দিতে পারেন ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )